মুম্বই : নানা পাটেকার তনুশ্রী দত্তের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছেন৷ এই অভিযোগ নিয়ে সপ্তাহখানেক ধরে লড়াই করে চলেছেন তনুশ্রী৷ ২০০৮ সালে শুরু হওয়া সেই সমস্যার সমাধান আজও হয়নি৷ #MeToo ক্যাম্পেনের প্রশ্ন করায় তনুশ্রী আবারও ১০ বছর আগের ঘটনাকে মনে করিয়ে দিলেন সকলকে৷ একদল নানা পাটেকারকে সমর্থন করে বলছেন, “প্রমাণ ছাড়া কারও উপর এই ধরণের অভিযোগ আনা উচিত নয়৷” অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, সোনম কাপুর, রেনুকা সাহানে, ফারহান আখতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তনুশ্রীর৷

এই বার এই বিতর্কের মোড় ঘুরল অন্যদিকে৷ সেন্সর বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান, পাহলাজ নিহালানি জানিয়েছেন, তিনি কেবল সেটের বাইরে ঘটা ঘটনার সম্বন্ধে জানেন৷ এবং তনুশ্রী প্রথমদিকে নানা পাটেকারের নামও উল্লেখ করেননি৷ ২০০৮ সালে চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন প্রোগব়ামের দায়িত্বে ছিলেন পাহলাজ৷ শ্যুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ‘হর্ন ওকে প্লিজ’এর প্রযোজক তাঁকে ফোন করে সবটা জানান৷ তনুশ্রী এবং প্রযোজক, উভয় দিক থেকেই এফআইআর করা হয়েছিল৷ কিন্তু কোথাও নানার নামের উল্লেখমাত্র ছিল না৷

তাঁর কথায়, “১০ বছর পর এই ঘটনার প্রসঙ্গ কেন উঠল সেটাই বুঝতে পারছি না৷ গোটা কাস্ট আর ক্রিউয়ের সামনে যদি কিছু ঘটে থাকে তাহলে তো কারও নানার সম্বন্ধে কিছু বলা উচিত৷ কিন্তু কেউই কিছু বলেনি৷” CINTAA এর প্রাক্তন প্রধান রাজা মুরাদ জানিয়েছেন, “আমি তনুশ্রীকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম না৷ ওনার তিনটে সমস্যা ছিল৷ প্রথমত, তাঁর জায়গায় রাখি সাওয়ান্তকে নেওয়া হয়েছে৷ দ্বিতীয়ত, তাঁকে নাকি যথাযথ পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি৷ তৃতীয়ত, নানা পাটেকারকে নিয়ে সমস্যা৷ আমি বলেছিলাম যৌন হেনস্থা হলে অপরাধীর শাস্তি পাওয়া উচিত৷ কিন্তু আমার মনে হয় তনুশ্রী ওভার রিঅ্যাক্ট করছে৷ নানা পাটেকারের স্বভাব একটু রাগী কিন্তু উনি একজন ভদ্রলোক৷”

আরও পড়ুন: “শ্যুট করতে গিয়ে তনুশ্রীর বাবা আমায় থাপ্পড় মারেন”

CINTAA’র স্ক্রুটিনি কমিটিতে ২২ বছর ধরে চেয়ারম্যানের পদে রয়েছে গজেন্দ্র চৌহান৷ তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টির আদালতে বিচার হওয়া উচিত৷ যারা এ বিষয় কিছুই জানে না তাদের কোনও মন্তব্য করা উচিত নয়৷ তিনি আরও বলেছেন, ১০ বছর ধরে ভিক্টিম হয়ে না ঘুরে প্রমাণ নিয়ে এসে কথা বলাই ভালো৷ তিনি আরও বলেন, “সেই সময় তনুশ্রীকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যে এই ধরণের সমস্যার সমাধান করার অধিকার CINTAA-র নেই৷”

‘হর্ন ওকে প্লিজ’র পরিচালক রাকেশ সারাং সরাসরি বলে দিয়েছেন, “এই সব কিছু বিগ বসে যাওয়ার জন্য করছে তনুশ্রী৷” ছবির প্রযোজক সামি সিদ্দিকি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, “আমার মনে হয়, সেই সময় তনুশ্রীর ঋতুমতী ছিল৷ তাই একটু এদিক ওদিক ছুঁয়ে ফেলাতেই ওনার মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল৷” মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী দীপক কেসারকার তনুশ্রীর অভিযোগকে, পুরোপুরি পাব্লিসিটি স্টান্ট বলেছেন৷