সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : মোদী এলেন, মোদী গেলেন। তাঁর ‘পিছু পিছু’ প্রচুর নমো সমর্থক ব্রিগেডের মাঠমুখী হয়েছিল। প্রচুর বাস অন্য জেলা থেকে আসে শহরের বুকে। এরপরেও দিনভর সুস্থ বায়ু বুকভরে নিয়েছে শহরবাসী। অথচ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যেদিন ব্রিগেড মাঠে সভা করেছিলেন সেদিন দূষণে ছেয়ে গিয়েছিল শহরের বুকে। অবাক করা রাজ্য পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের তথ্য এমনটাই বলছে।

ব্রিগেড থেকে সবথেকে কাছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। এখানে রাজ্য পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের দূষণমাপক যন্ত্র রয়েছে, যা ওই এলাকা এবং তার পাশাপাশি যে অঞ্চলগুলি রয়েছে তার দূষণ মাত্রার তথ্য দেয়। ১৯ জানুয়ারি ২০১৯ ব্রিগেডে সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সঙ্গে ছিলেন দেশের একঝাঁক জাতীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সভার নাম দেওয়া হয় ইউনাইটেড ইন্ডিয়া।

জনস্রোত আছড়ে পড়েছিল ব্রিগেড ময়দানে। তথ্য অনুযায়ী ওইদিন দিনভর বাতাস ভরে গিয়েছিল বিষে। দূষণের মাত্রা ছিল ৩৭২, যা রাজ্য পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড অনুযায়ী মারাত্মক ক্ষতিকর। যাদের শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়ায় সমস্যা রয়েছে তাঁদের জন্য সবথেকে খারাপ। সর্বোচ্চ দূষণমাত্রা ছিল ৪৮৯, যা যে কোনও মানুষের জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর। ৪৮৯ মাত্রার বিষবায়ু উপস্থিত ছিল রাত পর্যন্ত।

এবার যদি ৩ এপ্রিল মোদীর ব্রিগেড সভার দিকে তাকানো যায় রাজ্য পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের তথ্যতে চমক। সারাদিন বিশুদ্ধ বাতাসে ভরা ছিল ওই একই অঞ্চলের বায়ু। দূষণমাত্রা ছিল গড় ৬৪। দিনভর এই মাত্রা ৭০এর ঘরেও যায়নি।

অথচ বুধবার সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সমর্থকরা ব্রিগেডমুখী ছিল। লক্ষ্য একবার নমোর দেখা পাওয়া। কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে তিনি কি বার্তা দেন তা শুনে আসা। তারপর নিজ নিজ ‘গাঁয়ে’ ফিরে চৌকিদার চৌকিদার বলে রাজ্যে দলীয় ভোট ব্যাংক রক্ষা করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়া।

প্রশ্ন উঠছে কি করে এমন হতে পারে? আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আবহবিদরা বলছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সময় সভা করেছিলেন সেই সময় পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব ছিল শহরের উপর। আকাশ মেঘে ঢাকা ছিল। সঙ্গে অন্য জেলার প্রচুর পরিমাণ গাড়ি রাজ্যে এসেছিল। কিন্তু মোদীর সভায় দিনভর রৌদ্রজ্জ্বল ছিল আকাশ। ফলে সেটা বাতাসের উপর প্রভাব ফেলেনি।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন , “প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সভায় অন্য জেলার গাড়ি এলেও তা মমতার সভার তুলনায় ধারে কাছে আসবে না। প্রচুর বিজেপি কর্মী সমর্থক এলেও সেই সংখ্যা বামেদের ব্রিগেড সভারও ধারে কাছে পৌঁছয়নি।” জোড়া প্রভাব পড়েছে শহরের দূষণমাত্রায়। পরিবেশের দিক থেকে তা সুখকর হলেও আসন্ন লোকসভা ভোটের জন্য তা রাজ্য বিজেপির জন্য সুখকর নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।