মস্কো: মার্কিন এয়ারস্ট্রাইকে সোলেমানির মৃত্যুর কয়েকদিন পরই আচমকা ইরানের আকাশে ভেঙে পড়ে যাত্রীবাহী বিমান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ১৭৬ জনের। আর সেই বিমান দুর্ঘটনা ঘিরে নতুন ব্যাখ্যা দিল রাশিয়া।

রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ঘটনার দিন ইরান সীমান্তে অন্তত ৬টি মার্কিন যুদ্ধবিমান আকাশে উড়ছিল। মস্কোয় সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, তার কাছে এমন গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে, ওই সময় অন্তত ৬টি মার্কিন এফ-৩৫ এয়ারক্রাফট ইরান সীমান্তের আকাশে উড়ছিল।

মিসাইল ছুঁড়ে ইউক্রেনের বিমান ধ্বংস করার অভিযোগ উড়িয়েছিল তেহরান। তবে, পরে সেই দাবি থেকে সরে এসে দোষ কবুল করে ইরান। তেহরান জানিয়েছিল, ‘অনিচ্ছাকৃতভাবেই’ ইরানী সেনার আক্রমণে ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমানটি ধ্বংস হয়েছে। এই দুর্ঘটনা ‘ভুলবশত’ বলে দাবি করে ইরান।

গত বুধবার ইরানের ইমাম খোমেইনি বিমানবন্দর থেকে টেক-অফ করার পরই ইউক্রেন আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থার বোয়িং ৭৩৭ ভেঙে পড়ে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা বলে জানানো হয়। এতে নিহত হন ১৭৬ জন।

দু’দিন পরে আমেরিকা একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করে যে, মিসাইলেই ধ্বংস হয়েছে ওই বিমান। ১০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে কোন একটা বস্তুর আঘাতে বিমানটিতে আগুন ধরে যেতে দেখা যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরই প্রচণ্ড শব্দে এটি বিষ্ফোরিত হয়।

দাবি, তেহরান বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পরই এতে কিছু একটা আঘাত হানে। এতে বিমানটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। ওই অবস্থায় পাইলট বিমানটিকে আবার তেহরানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু কয়েক মিনিট পরই এটি বিষ্ফোরিত হয়ে সব যাত্রী ও ক্রু নিহত হন।

তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পরই ইউক্রেন এয়ারলাইন্সের ওই বিমানটি ভেঙে পড়ে। এদের মধ্যে ১৬৭ জন যাত্রী এবং ৯ জন ক্রু ছিলেন। ইরানের দাবি, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৩৭ মডেলের বিমানটি ভেঙে হয়। এরপরই এই ঘটনার কথা স্বীকার করে ইরান।

বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি বলেছিলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটির ব্যাখ্যা কোনও মতেই ধোপে টেকে না। ভুল করেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’ মিসাইল হামলার দিকেই ছিল তাঁর ইঙ্গিত।