সুভীক কুন্ডু, কলকাতা: যুবভারতীতে অ্যারোজের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়েই ঘরের মাঠে বুটজোড়া তুলে রাখলেন মেহতাব হোসেন৷ দুই বড় ক্লাব মিলিয়ে ১৭ বছর, সব মিলিয়ে ফুটবল কেরিয়ার প্রায় ২১ বছরের৷ কেরিয়ারের সূর্যাস্তের দিনে গ্যালারির দিকে তাকিয়ে হাত নেড়ে মুহূর্তেই সব স্মৃতিকে গুডবাই! অ্যারোজ ফুটবলারদের কাঁধে চড়েই ফেয়ারওয়েল উপহার পেলেন মেহতাব৷

বিদায়বেলায় ফ্যানেদের আদরের ভিকি ভাইয়ের গলায় আবেগের সুর৷ যুবভারতী ছাড়ার মুহূর্তে শুনিয়ে গেলেন, ‘এরপর আর বল পায়ে ম্যাচে নামা হবে না৷ গোলের জন্য মেহতাবের দিকে কেউ তাকিয়ে থাকবে না৷ ডার্বির আগে ফ্যানেরা বলবে না ভিকি ভাই ওদের হারাতে হবে৷’ আগামী দিনের নতুন স্বপ্ন নিয়ে যুবভারতী ছাড়লেন ময়দানের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার৷ শেষটায় শুধু বলে গেলেন, ‘খেলা ছাড়লেও বল পায়ে চর্চা চলবে, অভ্যাস ছাড়লে অসুস্থ হয়ে পড়ব!’

বিদায়বেলায় অবশ্য এদিন যেন বড়ই উপেক্ষিত মেহতাব৷ ময়দানেই ফুটবলের হাতেছড়ি, সেখান থেকেই একে একে সিঁড়ি বেয়ে শিখরে উঠেছেন৷ সেকারণেই ঘরের মাঠেই শেষ ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলেন৷ দল সুপারকাপে খেললে বিদায়টা কটকে নিতে হত৷ চেনা মাঠ, চেনা কলকাতাতে বিদায় জানানো হত না৷ সেকারণেই আই লিগে বাগানের শেষ ম্যাচকেই বেছে নেন মেহতাব৷

শেষদিনে অবশ্য মেহতাবের চারধারে ভিড়ের বৃত্তের পুরনো ছবিটা ধরা পড়ল না৷ ময়দানি মিডফিল্ডার জেনারেলের বিদায়ী ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে হাতে গোনা সমর্থক৷ ফাঁকা মাঠে নব্বই মিনিট ধরে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পড়ে দলকে জেতানোর লড়াই চালিয়ে গেলেন৷ নব্বই মিনিট শেষে হতে বিদায়ী ম্যাচে ক্যাপ্টেন মেহতাবের প্রাপ্তি শূন্য৷ একটু সতর্ক হয়ে খেললে মেহতাবের বিদায়ী ম্যাচটা সত্যিই কী জয় উপহার দিতে পারতেন না সনি-কিংসলেরা৷ সেটাই হয়ত হত মেহতাবের সেরা পাওনা৷

ম্যাচ শেষে উত্তরীয় পরিয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে ফেয়ারওয়েল জানানো হয়৷ সেই মঞ্চে অবশ্য নেই ক্লাবের বড় কোনও কর্তা৷ নামমাত্র ফেয়ারওয়েল৷ ম্যাচের পর ফাঁকা মাঠে স্ত্রী-দুই পুত্র ও অ্যারেজ দলের সঙ্গে ফেমবন্দি মেহতাব৷ সিনিয়রের অবসর বেলায় নূন্যতম সম্মান জানাতেও ভুলল সনি-ডিকারা৷ ম্যাচ শেষ হতেই হারের যন্ত্রণা নিয়ে দলের সবাই তখন ব্যাক টু ড্রেসিংরুম৷ সতীর্থদের ছাড়াই বিদায়বেলায় প্রতিপক্ষ অ্যারোজের দলের কাঁধে চেপে ফেয়ারওয়েল মোমেন্টে মাঠ প্রদক্ষিণ করলেন মেহতাব৷ বিদায়বেলায় সত্যিই কী দলের থেকে আরও বেশি কিছু প্রাপ্য ছিল না মেহতাবের৷ বাগানের মিডফিল্ডার জেনারেল অবশ্য সতীর্থদের এমন আচরণকে আড়াল করলেন৷

সিনিয়রকে সম্মান জানাতে অবশ্য ছোটরা ভোলেনি৷ বিদায়বেলায় মন ভেঙে যাওয়া মেহতাবকে নিয়ে মাঠ চসে ফেলল অ্যারোজ খুদেরা৷ একজন খেলোয়াড়ের বিদায়বেলায় কেমন সম্মান জানানো উচিত সেটাই যেন সনি-ডিকাদের শিখিয়ে দিল অভিজিৎ-রহিম আলিরা৷ কোচ খালিদ অবশ্য শাখ দিয়ে মাছ ঢাকলেন৷ খালিদ বলেন, ‘ম্যাচ শেষে ফেয়ারওয়েল নিয়ে কিছুই জানা ছিল না৷ সেকারণেই মাঠ ছেড়ে দল ড্রেসিংরুমে ফিরে আসে৷’ সত্যিই এ উত্তর কী মানা যায়!  শেষ বেলায় যোগ্য সম্মানটাই দিতে পারল না মোহনবাগান৷