স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: হিন্দু শরণার্থীদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই৷ প্রথমে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আইনে পরিণত করে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে৷ তারপরই প্রয়োগ হবে এনআরসি৷ কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে সোমবার জানিয়ে দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷

মঙ্গলবার রাজ্যে তৃতীয় দফায় ভোট রয়েছে পাঁচ কেন্দ্রে৷ মালদহের দুটি আসন ছাড়াও ভোটগ্রহণ হবে মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর ও বালুরঘাটে৷ এর আগে বাংলায় প্রচারে এসে এনআরসি প্রয়োগের কথা জোড় দিয়ে বলেছিলেন মোদী ও অমিত শাহ৷ বিরোধীতায় সরব তৃণমূল নেত্রী৷ তাঁর হুশিয়ারি পশ্চিমবঙ্গে কিছুতেই এনআরসি প্রয়োগ করতে দেওয়া হবে না৷

প্রচারে অসমের উদাহরণ তুলে ধরে এনআরসি, নাগরিতক্ব বিলের ক্ষতির কথা তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এসে এনআরসি করলে নিজভূমের পরবাসী হয়ে পড়বে ভারতীয়রা৷ সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি বাদ পড়বেন বহু হিন্দুও৷ এনআরসি, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে বিজেপির ‘ভেদাভেদার কৌশল’ বলে অভিযোগ করেন তিনি৷ তুলে ধরেন অসমের উদাহরণ৷

আরও পড়ুন: দু-দফার নির্বাচনেই মমতা বুঝে গেছেন বিজেপি আসছে: অমিত শা

এদিনের সাংবাদির বৈঠকে অমিত শাহের কাছে প্রশ্ন করা হয়, এনআরসি, নাগরিকত্ব বিলের ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার হিন্দু ভোটাররা আতঙ্কিত৷ তারা মনে করেন এর ফলে তাদের নামও বাদ পড়তে পারে৷ জবাবে গেরুয়া দলের চাণক্যের আশ্বাস, ‘‘প্রতিবেশী রাজ্যের যেসব সংখ্যালঘু আশ্রয়ের জন্য ভারতে এসেছেন তারা নিশ্চিন্ত থাকুন৷’’ তবে অনুপ্রবেশকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আর বেশিদিন নেই৷ অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বার করে দেওয়া হবে৷’’ তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ করতে দেয়নি৷ দেশের সুরক্ষার বদলে ভোট ব্যাংকের রাজনীতি করছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী৷

আরও পড়ুন: তৃতীয় দফার ভোটের আগে বাংলায় আরও বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের

বিজেপি সভাপতি বলেন, ‘‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আইনে পরিণত করা হবে৷ ওই আইন দিয়েই প্রতিবেশী দেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন সহ যেসব সংখ্যালঘু এসেছেন তাদের ভারতের নাগরিক সম্মান সুনিশ্চিৎ করা হবে৷ তারপর প্রয়োগ হবে এনআরসি৷ এতে বৈধ শরণার্থীদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই৷’’

ভারত বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে বহু হিন্দু শরণার্থীর বসবাস৷ এদের মধ্যে বহু ভোটারও রয়েছেন৷ অসমের অভিজ্ঞতা বলছে এনআরসি প্রয়োগ হলে তারাও নিরাপদ নন৷ খোয়া যেতে পারে নাগরিকত্ব৷ ফলে তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন৷

অন্যদিকে সীমান্তে ধর্মীয় মেরুকণের মাধ্যমে হিন্দু ভোট এক করে বাংলায় ভোট বৈতরণী পারের স্বপ্ন দেখছে বিজেপি৷ যাতে বাধ সাদতে পারে বিজেপির এনআরসি পদক্ষেপ৷ তাই ভোটের আগে অবস্থান স্পষ্ট করে হিন্দু ভোট ব্যাংক অটুট রাখতে চাইলেন পদ্ম শিবিরের মসিহা৷