শেখর দুবে: কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে জঙ্গীহানার পরই কলকাতায় যুদ্ধবিরোধী মিছিল শুরু হয়েছে৷ কিন্তু এই যুদ্ধটা যে হচ্ছে কোথায় কেউ জানে না৷ জঙ্গীহানায় মারা গিয়েছে দেশের জওয়ানরা অথচ তাদের নিয়ে কোনও রকম মিটিং মিছিল নেই৷ এই ঘটনা বোধহয় একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই সম্ভব৷ এমন দেখানো হচ্ছে যেন ভারত কোন দেশের সঙ্গে যুদ্ধরত৷ অবাকভাবে এই সব মিছিলওয়ালারা কেউ কিন্তু জঙ্গীহানার সমালোচনা করে কোনও রকম বক্তব্য রাখছেন না!

বুধবার উত্তর কলকাতার জানবাজার সন্নিহীত অঞ্চলে মিছিল বের করে এপিডিআর নামে একটি সংগঠন৷ এপিডিআরের শান্তি মিছিলের সামনে জাতীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে কিছু ছেলে৷ পরে এদের মধ্যে দুজনকে বাগে পেয়ে মিছিলের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলে মারার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে সামনে আসে৷ একটি সংগঠন যারা যুদ্ধের বিরোধিতা করতে রাস্তায় নেমেছেন, হানাহানির নয় শান্তি চাইছেন তারা কীভাবে হঠাৎ আগ্রাসী হয়ে ভারতেরই কিছু যুবককে মারতে উদ্যত হলেন?

এপিডিআরএর অনেকে দাবি করেছেন এই ছেলেগুলি জাতীয় পতাকা হাতে মিছিলের উপর হামলা চালাচ্ছিল৷ যদি ওনাদের অভিযোগ সত্যিও হয়ে থাকে তাহলেও শান্তি মিছিলের নিয়ম মেনে ওদের রাস্তার সাইডে গিয়ে বোঝানো উচিৎ ছিল না কী? পাল্টা হিংসা আর আক্রোশের কী দরকার ছিল? ১৪ই ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরে পুলওয়ামাতে পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গিরা আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়ও৷ ঘটনায় ৪৪ জন সেনা শহিদ হয়েছেন বলে খবর৷

পরে কাশ্মীরকে জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইয়ে আরও কয়েকজন সেনার শহিদ হওয়ার খবর আসে৷ এরকম অবস্থায় পাল্টা প্রত্যাঘাত কিংবা যুদ্ধ যাতে না করে বসে সেই জন্য যদি এপিডিআর মিছিল করে থাকে তাহলে নিজেদের উপর সামান্য আক্রম হলে তারা পাল্টা আক্রমণে গেলেন কেন? দেশের উপর হামলা হলে এক নিয়ম অথচ নিজেদের উপর আক্রমণ হলে শান্তির দাবি অথচ নিজেদের সামান্য বিক্ষোভের সামনে পড়তে হলেও পাল্টা মার? এ কেমন দ্বিচারীতা?

এপিডিআরের মতো সংগঠনগুলি আজমল কাসভ থেকে মাওবাদী নেতাদের মানবাধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়৷ অবাকভাবে দেশের সীমান্তে পাক-জঙ্গিদেরগুলিতে সেনা জওয়ানরা মারা গেলে তাদের মানবাধিকার নিয়ে কখনও সোচ্চার হয়না এপিডিআর! মানবাধিকার কী শুধু জঙ্গিদের জন্য?

  • মতামত লেখকের নিজস্ব।