নয়াদিল্লি: ২০২১ দেশের মাটিতে টি২০ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আইসিসি’র কর মকুবে ব্যর্থ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ফলস্বরূপ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন বিসিসিআই’য়ের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে আগামী বছর বিশ্বকাপের দায়িত্ব। এই মর্মে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে সম্প্রতি একটি হুমকি ই-মেলও পাঠিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের গভর্নিং বডি। কিন্তু আইসিসি’র বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কর মকুবে ব্যর্থ হলেও বিশ্বকাপের দায়িত্ব খোয়ানোর কোনও আশঙ্কা নেই। সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে এমনই আশ্বাস দিলেন বোর্ডের এক আধিকারিক।

গত ১৮মে’র মধ্যে বিসিসিআই’কে বিশ্বকাপের কর মকুব করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল আইসিসি। কিন্তু লকডাউনের কারণে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কর মকুবে ব্যর্থ হয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। কর মকুবের সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি জানিয়ে আগামী ৩০জুন অবধি আইসিসি’র কাছে সময় চেয়েছে বিসিসিআই। কিন্তু কর মকুবে বিসিসিআই’য়ের এমন ঢিলেমির কারণে বেজায় অসন্তুষ্ট আইসিসি বিশ্বকাপের দায়িত্ব কেড়ে নেওয়ার প্রছন্ন হুমকি ছুঁড়ে দিয়েছে বলে একটি রিপোর্টে প্রকাশ।

এপ্রসঙ্গে বিসিসিআই’য়ের কোষধ্যক্ষ অরুণ ধুমাল রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। আইসিসি’র সঙ্গে এব্যাপারে কথাবার্তা চলছে। ধুমালের কথায়, ‘দেশের মাটিতে টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে কোনও ঝুঁকি নেই। কথাবার্তা চলছে, আমরা আইসিসি’র সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে চলেছি এ বিষয়ে। খুব শীঘ্রই সমস্যা মিটে যাবে।’

যদিও আইসিসি জেনারেল কাউন্সিলের তরফে জোনাথন হল জানিয়েছেন, ‘বিসিসিআই’য়ের কাছে কর মকুব করার জন্য প্রচুর সময় ছিল। টুর্নামেন্টের ১৮ মাস আগে তা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯ মধ্যে বিসিসিআই’য়ের কর মিটিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইসিসি বিজনেস কর্পোরেশন কিছুতেই বিসিসিআই’য়ের মেয়াদ বৃদ্ধির আর্জি মেনে নিতে রাজি হচ্ছে না। যা ৩০জুন, ২০২০ অর্থাৎ লকডাউন উঠে যাওয়ারও এক মাস পর।’

জোনাথন আর বলেন, ‘বিসিসিআই’য়ের এমন অনিবার্য পরিস্থিতির দোহাই পর্যালোচনা করে দেখা হবে। এবং তাতে যদি মনে হয়ে তাহলে আইবিসি ১৮ মে পরবর্তী যে কোনও সময় বিসিসিআই’কে ২০২১ বিশ্বকাপের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারে।’ এটাই প্রথমবার নয়। এর আগেও কর মকুব নিয়ে আইসিসি’র সঙ্গে সংঘাত বেঁধেছিল বিসিসিআই’য়ের। ২০১৬ ভারতের মাটিতে টি২০ বিশ্বকাপের ক্ষেত্রেও কর মকুবে ব্যর্থ হয়েছিল বিসিসিআই। যার জেরে ২০-৩০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছিল আইসিসি’র।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প