স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে নেতাজির ১২৫তম জন্মদিবস উপলক্ষে ‘‌পরাক্রম দিবস’‌–এর অনুষ্ঠানে জয় শ্রী রাম স্লোগান ঘিরে বিতর্কের অন্ত নেই৷ এরমধ্যেই একটি ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি পোস্ট করলেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়৷ যদিও বাবুল বলেছেন, ব্যঙ্গ করার জন্য ছবিটা তিনি পোস্ট করবেন না, এটা শুধুমাত্র তাঁর কাছে একটা মুল্যবান ছবি৷

টুইটারে বাবুল সুপ্রিয় যে ছবিটা পোস্ট করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে ভিক্টোরিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে বাবুল৷ মোদীর ঠিক পিছনে রয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়৷ আর তাঁদের কয়েক কদম পেছনে খানিকটা দূরে মুখ নীচু করে দাঁড়িয়ে আছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বাবুল টুইটে লিখেছেন, এটা আমার কাছে খুব বিশেষ একটা ছবি৷ কারণ প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী একই ফ্রেমে রয়েছেন৷

বলে রাখি, নেতাজি ভিক্টোরিয়ায় দুই যুযুধান পক্ষকে মিলিয়ে দিলেও শতাব্দী প্রাচীন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে এদিন আগাগোড়া দূরত্ব বজায় রেখে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।শনিবার প্রথম সাক্ষাতে নমস্কার বিনিময় হয়েছিল। মমতা উত্তরীয়ও পরিয়ে দিয়েছিলেন মোদীকে। কিন্তু বরাবর দু’জনের মধ্যে দূরত্বটুকু চোখে পড়েছে। ভিক্টোরিয়ায় বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখার সময়েও কাছাকাছি তো নয়ই, খুব কম সময়ই পাশাপাশি দেখা গেল কেন্দ্র ও রাজ্যের দুই প্রধানকে।

প্রসঙ্গত, শনিবার ভিক্টোরিয়ার অনুষ্ঠান মঞ্চে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেলের বক্তব্য শেষ করার পর, পরের বক্তা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে নেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক। তখনই আচমকা সভায় উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে থেকে উঠে এল ‘‌জয় শ্রী রাম’‌ স্লোগান। আর তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে বক্তব্য রাখতে অস্বীকার কেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। সাফ জানিয়ে দেন,’কাউকে আমন্ত্রণ করে তাঁকে অসম্মান করা শোভা দেয় না’। তিনি আরও বলেন, ‘‌আমার মনে হয়, সরকারি অনুষ্ঠানের একটা আলাদাই মর্যাদা, সম্ভ্রম থাকে। এটা সরকারি অনুষ্ঠান। কোনও রাজনৈতিক দলের সভা নয়। এটা সকল রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের অনুষ্ঠান।’‌

বিজেপি নেতা চন্দ্র বসুর মত, জয় শ্রীরাম স্লোগান শুনে মুখ্যমন্ত্রীর এমন আচরণ করা উচিত হয়নি। আজ রাজনীতি করার সময় নয়। আজ উদযাপনের দিন। আজ আজাদ হিন্দ বাহিনীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর দিন।’

বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেছেন, বক্তৃতা বয়কট করে নেতাজিকেই অপমান করেছেন মমতা। তিনি বলেছেন, অনুষ্ঠানে নানা ধরনের স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। কেউ জয় হিন্দ বলছিলেন, কেউ বন্দেমারতম, আবার জয় শ্রী রাম স্লোগানও দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সামনে এই স্লোগানে আপত্তির কী তা বোধগম্য নয়। বিজয়বর্গীয় বলেছেন, মমতার আগে থেকেই অ্যাজেন্ডা ছিল। তিনি মঞ্চের অপব্যবহার করে কিছু সংখ্যক মানুষকে খুশি করতে চেয়েছেন। ভারতে রাম-রাম বলে একে অপরকে অভিবাদন করা হয়। শ্রী রামের নাম নেওয়ায় কারুর আপত্তি করা উচিত নয়।

তৃণমূলের অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন,“নেতাজী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন, তাঁকে নিয়ে রাজনীতি করব। কারোর বাপের হিম্মত আছে তো আটকাক।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।