ফাইল চিত্র

স্টাফ রিপোর্টার, কাঁথি: আত্মঘাতী হয়েছিলেন মহিলা। হাসপাতালে নিয়ে আসতে মৃত বলে জানিয়ে ছিলেন চিকিৎসকরা। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ উদ্ধারে করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খবর দিয়েছিল থানায়। পুলিশ আসেনি সময়ে। হাসপাতালেও নেই দেহ রাখার মর্গ। আর এই পরিস্থিতিতে মৃত্যুর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরও মৃতদেহ পড়ে রইল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মধ্যে। দুর্গন্ধ ছড়াতেই অন্যান্য রোগীরা বিক্ষোভ দেখালে পুলিশ এসে উদ্ধার করে দেহ। ঘটনা পাঁশকুড় সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের।

পাঁশকুড়া থানার রানাহাটির বাসিন্দা অনুপমা সিনহা (২৫) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বৃহস্পতিবার দুপুরে। বাড়ির লোকেরা উদ্ধার করে তাঁকে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসেন। মৃত বলে জানান চিকিৎসকরা। অভিযোগ, মৃত্যুর পর দেহ জরুরি বিভাগের বেডেই ফেলে রাখা হয়। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সেই ভাবে দেহ পড়ে থাকে বেড়েই। নার্স, ডাক্তার, আধিকারিকরা দেখেও না দেখার ভান করে চলে যান।

মৃতের পরিবারের লোকেরাও দেহ পাওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আবেদন জানিয়ে হাঁপিয়ে ওঠেন। অন্যান্য রোগীরাও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে দেহটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। অভিযোগ তাতে কর্ণপাত করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে হাসপাতালের অন্য রোগীরা সমস্যায় পড়েন। অনেকে গন্ধ সহ্য করতে না পেরে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে য়ান। এরপর বিক্ষোভ শুরু হলে টনক নড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিসের।

তড়িঘড়ি করে এসে দুপুর ১ টা নাগাদ দেহ নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। হাসপাতাল সুপার শচীনন্দন রজত বলেন,ওই মহিলা আত্মঘাতী হয়েছিলেন।এক্ষেত্রে পুলিসি তদন্তের প্রয়োজন থাকায় আমরা পাঁশকুড়া থানাকে দেয়া উদ্ধারের জন্য জানিয়েছিলাম।পুলিস আসতে দেরি করেছে।আর হাসপাতলে মর্গের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় দেহ বেড়েই ফেলে রাখতে হয়েছে বাধ্য হয়ে।