প্রসেনজিৎ চৌধুরী, ঢাকা: অভিজাত এলাকা ধানমন্ডি কিংবা বারিধারা, আবার গুলিস্তান-শাহবাগের ঘিঞ্জি ফুটপাতের সর্বত্রই মাস্ক পরা মুখ দেখা যাবে। ভুল করেও ভাববেন না- করোনাভাইরাসের ভয়ে এসব পরার হিড়িক। ধুলোর ছোঁয়া থেকে নাক মুখ বাঁচাতে মাস্ক-ই হল ঢাকাবাসীর হাতিয়ার।

ঠিক যেমন দূষিত দিল্লির রাস্তায় এই দৃশ্য চোখে পড়বে। কিন্তু ঢাকার প্রতিবেশী এশিয়ার আরও এক বাংলাভাষী মহানগরী কলকাতায় ততটা মাস্ক পরা মুখ কম।

মিরপুর থেকে শাহবাগ যাওয়ার ভিড়ের বাসে সহযাত্রীদের অন্তত ১৫-১৬ জনকে দেখলাম মুখ ঢেকে নিয়েছেন। তারই মধ্যে ফেরিওয়ালা বাসে উঠে হাঁক দিচ্ছেন- মাস্ক নিন, মাস্ক নিন। কয়েকটা বিক্রি হয়ে গেল।

বাংলাদেশের রাজধানী শহরের দুটি পুর নিগম। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। সদ্য শেষ হওয়া সিটি নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রেখেছে আওয়ামী লীগ। তবে অভিযোগ, দুই সিটির দূষণ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

ঢাকার রাস্কায় রাস্তায় বিজ্ঞাপনের ঝলকে স্বপ্নের মেট্রো রেল উদ্ভাসিত। কাজ চলছে জোর কদমে। লাইন বসানোর জন্য বিরাট বিরাট বিমের ধাক্কায় পথ আরও সংকীর্ণ। সেই খোঁড়াখুঁড়ি কাজের কারণে আরও ধুলোর ধাক্কা। স্বাভাবিকভাবে মুখ ঢাকা মাস্কের চাহিদা তুঙ্গে।

মেট্রো পশ্চিমবঙ্গ তো ভারতের সব রাজ্যকেই টেক্কা গিয়ে প্রথম স্থান নিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আসা অনেকেই কলকাতার মেট্রো স্বাদ পেতে চান। বিশেষ করে মাটির নিচে চলা পাতাল রেল। তবে ঢাকার মেট্রো পরিষেবাটি মুলত উড়াল সেতুর উপরেই থাকছে।

জনবহুল ঢাকা নগরীর উপর নিথর অজগরের মতো পড়ে রয়েছে সেই রেল পথ। ভয়াবহ যানজটের নগরী ঢাকা এই মেট্রো পরিষেবার কারণে অনেকটাই স্বস্তি পাবে বলেই ধারণা জনগণের। গতিশীল মহানগরীর তকমা পেতে ধুলোর দূষণ সহ্য করছেন সবাই।

এদিকে খবর আসছে প্রতিদিন-ভয়ঙ্কর করোনাভাইরাসে চিনে বেড়ে চলছে মৃতের সংখ্যা। সেটা দু হাজার পার করতেই উদ্বেগ আরও বেশি। বাংলাদেশে এখনও কেউ করোনাভাইরাসের শিকার হননি। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে একথা জানানো হয়েছে। কিন্তু বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের মধ্যে অনেকেই করোনাভাইরাস আক্রান্ত।

ফলে চিন্তা যে বাড়ছেই তা স্পষ্ট। সেই চিন্তা বাড়িয়েছে মাস্ক বিক্রি। রাস্তা-ঘাটে মাস্কের কদর দেখলে চমকে উঠতে হবে। একে ধুলোর দূষণ, দুইয়ে আপাতভাবে বাংলাদেশে অস্তিত্বহীন ভাইরাস আতঙ্কের সুড়সুড়ি-মাস্কে মুখ ঢাকছেন ঢাকাবাসী।