লখনউ: ভারতীয় দলে ফিল্ডিংয়ের নতুন জোয়ার এসেছিল তাঁর হাত ধরে। তাঁকে ভারতীয় দলের সর্বকালের সেরা ফিল্ডার বললেও অত্যুক্তি করা হয় না। তৎকালীন ভারতীয় দলের ফিল্ডিংয়ে যুবরাজের সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দি ছিল মনে রাখার মতো। তিনি নিজে জাতীয় দলের কক্ষপথ থেকে ছিটকে গিয়েছেন বহুবছর আগে। বছরদু’য়েক আগে প্রতিযোগীতামূলক ক্রিকেট থেকে অবসরও নিয়েছেন। পাশাপশি জাতীয় দলে সতীর্থ যুবরাজও প্রাক্তন হয়েছেন গতবছর। কিন্তু তাঁর এবং যুবরাজের পরবর্তী সময় ভারতীয় দলে সেভাবে পরিপূর্ণ ফিল্ডার আসেনি। মত মহম্মদ কাইফের।

জাতীয় দলের কক্ষপথ থেকে ছিটকে যাওয়া সুরেশ রায়না কিংবা বর্তমান দলে রবীন্দ্র জাদেজা, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার মত নাম থাকলে এরা কেউই ফিল্ডার হিসেবে পরিপূর্ণ নন, জানিয়েছেন প্রাক্তন জাতীয় দলের ক্রিকেটার। কাইফের মতে এরা প্রত্যেকেই ভালো ফিল্ডার। তবে একজন পরিপূর্ণ ফিল্ডারের মধ্যে প্রয়োজন বেশ কিছু গুণাগুণ, যা জাদেজা-কোহলিদের মধ্যে নেই বলে জানিয়েছেন ২০০২ ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি ফাইনালের নায়ক।

কাইফের মতে, ‘পরিপূর্ণ ফিল্ডার হতে গেলে তোমায় ভালো ক্যাচার হতে হবে, সরাসরি উইকেট লক্ষ্য করে থ্রো করার সহজাত ক্ষমতা থাকতে হবে, জোরে দৌড়তে হবে এবং বল ধরার সঠিক টেকনিক থাকতে হবে।’ উত্তরপ্রদেশ ক্রিকেটারের সংযোজন, ‘আমরা যখন জাতীয় দলে ছিলাম তখন আমি এবং যুবরাজ ভালো ফিল্ডার হিসেবে দলে ছাপ রেখেছিলাম। ইদানিং ভারতীয় দলে ভালো ফিল্ডারের অভাব নেই। কিন্তু আমার মতে এরা কেউই পরিপূর্ণ নয়। একজন ফিল্ডার যে স্লিপে দুর্দান্ত ক্যাচ তালুবন্দি করবে, শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে ভালো ক্যাচ লুফবে, লং অনে দাঁড়িয়ে বাউন্ডারিতে জোরে ছুটতে পারবে। গোটা প্যাকেজটা একজনের মধ্যে মিসিং।’

তবে ভালো ফিল্ডার হিসেবে জাতীয় দলে এই মুহূর্তে রবীন্দ্র জাদেজা প্রশংসা কুড়িয়ে নিয়েছেন কাইফের। কাইফের কথায়, ‘ও খুব ভালো ফিল্ডার। ইদানিং আরও উন্নতি করছে। কিন্তু স্লিপ ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে সেরকম ঝাঁঝ নেই দলে।’

ইউ টিউব চ্যানেল স্পোর্টসস্ক্রিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাইফকে প্রশ্ন করা হয় রোহিত না বিরাট, কার ব্যাটিং বেশি পছন্দের। উত্তরে তিনি বলেন, কোহলির ব্যাটিং অন্য স্তরের। তবে আমি রোহিতের ব্যাটিং দেখতেই বেশি পছন্দ করি। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একই সময় দু’টি ভিন্ন ম্যাচে রোহিত এবং কোহলি যদি খেলে থাকে। তাহলে আমি রোহিতের ম্যাচটাই দেখতে যাব।’

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প