দেবময় ঘোষ: সার্জিকাল স্ট্রাইক কী শুধু মোদীই করতে পারেন৷ ইউপিএ সরকারের আমলে যে ১০টি স্ট্রাইক হয়েছে তার খবর রাখে সারা দেশ? লোকসভা নির্বাচন চলাকালিন সারা দেশেই ইউপিএ সরকারের আমলে হওয়া সার্জিকাল স্ট্রাইকের চর্চা শুরু হোক – প্রকাশ্যে না হলেও প্রচ্ছন্নে চেয়েছে কংগ্রেস৷ তবে সামরিকস্তরে অনেকেরই মতামত, ২০১৬ সালে উরি হামলার পর নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সেনার স্পেশাল ফোর্স যে হামলা চালিয়েছিল – তা অন্যান্য হামলা থেকে অনেকটাই আলাদা৷ যাকে সার্জিকাল স্ট্রাইক বলা চলে৷

২০১৬ সালের সার্জিকাল স্ট্রাইকের সঙ্গে ইউপিএ আমলের স্ট্রাইকের কিছু মৌলিক পার্থক্য বিশেষজ্ঞরা খুঁজে পেয়েছেন৷ সাধারণত, নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে সেনার গোপন আক্রমণের পরিকল্পনা হয় ব্যাটেলিয়ন, ব্রিগেড কিংবা ডিভিশনস্তরে৷ কিন্তু ২০১৬ সালের সার্জিকাল স্ট্রাইকের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেই হয়েছে৷ মোদী সরকারের সিনিয়ার মন্ত্রীরা অনেকেই এই স্ট্রাইকের খবর জানতেন না৷ সেনা প্রধান দলবীর সুহাগ সহ সেনার সিনিয়ার অফিসাররা এই আক্রমণের পিছনে মস্তিষ্ক লাগিয়েছিলেন৷

লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ডি এস হুডা, প্রাক্তন নর্দান আর্মি কমান্ডার সার্জিকাল স্ট্রাইকের পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন৷ কিছুদিন আগেই সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছিলেন, নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে সেনার গোপন আক্রমণ আগেও হয়েছে৷ কিন্তু ২০১৬ সালে উরি হামলার পর পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সেনা যে সার্জিকাল স্ট্রাইক করেছিল তা নানা দিক থেকে আলাদা৷ সুযোগ এবং কার্যকারিতা তাকে অন্য অপরেশনগুলির থেকে আলাদা করে দিয়েছে৷ এছা্ড়া এই প্রথমবার সরকার সরাসরি ওই অপরেশনের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে৷

উল্লেখযোগ্যে সেনার তরফ থেকে সার্জিকাল স্ট্রাইকের পর সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র সংসদে সর্বদলের প্রতিনিধিদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন৷ ইউপিএ সরকারের আমলে যে ১০টি স্ট্রাইক হয়েছে তা গোপন থেকে গিয়েছে৷ থেকে গিয়েছে অপ্রকাশিত সত্য হিসেবে৷ উরি ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল শ্রীনগরের ১৫ কর্প৷ লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সতীশ দুয়া ওই কর্পের দায়িত্বে ছিলেন৷ পরে তিনি জানিয়েছিলেন, পুরো ওয়েস্টার্ন কমান্ডকে সজাগ ছিল৷ পাকিস্তান পালটা আক্রমণ করতে এলেই জবাব পেত৷

অনেক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, সেনার ক্ষমতা প্রশ্নাতীত৷ কিন্তু দেশে রাজনৈতিক সচেতনতা প্রয়োজন৷ মোদী সরকার যদি সফলভাবে সার্জিকাল স্ট্রাইক করতে পারে তবে এটি অবশ্যই কৃতিত্বের৷ একমাত্র সাহসী নেতারাই এই কাজ করতে পারে৷ সার্জিকাল অবশ্যই অকটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত৷ পুলওয়ামা হামলার পর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইক চালানো ঘটনাও নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.