হলদিয়া: প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই পথে নেমেছেন বহু মানুষ। সামিল বিদ্বজ্জনেরাও। ইতিমধ্যেই এনআরসি ও সিএএ-র বয়কর ডাক দিয়েছেন বাংলার শিল্পীরা। সেখানে রয়েছেন সংবেদনশীল মানুষ থেকে শুরু করে পড়ুয়ারাও। আন্দোলনে সামিল হয়ে প্রত্যেকের মুখে এক কথা– ‘কাগজ আমরা দেখাব না’।

ভিডিওর মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী, রূপম ইসলাম। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, মনোরঞ্জন ব্যাপারী, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়, কঙ্কণা সেন শর্মা, নন্দনা দেবসেন প্রমুখ। এবার সেই আন্দোলনে সামিল শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনিও চাইছেন না কাগজ দেখাতে। কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল। তবে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছে না বিশিষ্টজন থেকে আম জনতা। প্রত্যেকের মুখে এক স্লোগান নো এনআরসি, নো সিএএ। সেই প্রতিবাদে নতুন সংযোজন– কাগজ আমরা দেখাব না।

শুক্রবার হলদিয়ায় এক সাহিত্য উৎসবে যোগ দেন শীর্ষেন্দু। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি তাঁদের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আমরা এনআরসি চাইছি না, সিএএ চাইছি না। কারণ, যারা উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে বসবাস করি তাঁরা জানি অনুপ্রবেশের সমস্যা আছেই। এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি অসমে। পশ্চিমবঙ্গেও খানিকটা আছে। কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে কত মানুষ যে আবার বাস্তুহারা হবে। কত মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। সম্প্রতি কাছাড়ে গিয়েছলাম একটি সাহিত্য সভায়। সেখানে পুরোপুরি নাগরিকত্বের প্রশ্নে ভারাক্রান্ত হয়ে গেল।”

কেন্দ্রীয় সরকারের এই ‘অসাংবিধানিক’ সিদ্ধান্তে খুশি নন অনেকেই। বাংলার নানা জায়গায় প্রতিবাদ। শুক্রবার দুপুরে এনআরসি, সিএএ-র বিরোধিতা করে মিছিল বের করে নাট্যকর্মীদের একাংশ। মিছিলে হেঁটেছেন বিভাস চক্রবর্তী, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌমিত্র বসু, পল্লব কীর্তনিয়া, নীল মুখোপাধ্যায়, অশোক মুখোপাধ্যায়, মেঘনাদ ভট্টাচার্য, চন্দন সেন প্রমুখ। যদিও তাঁদের মিছিলে কোনও দলীয় রং ছিল না।