দেবময় ঘোষ, কলকাতা: মাত্র একজন বামফ্রন্ট প্রার্থী ২০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন। ফ্রন্টের ঘোর দুর্দিনে যা এক নির্মম রসিকতার মতোই সত্য।

রাজ্যে ৪২ টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৪০টি তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে বামফ্রন্ট প্রার্থীরা। ‘বন্ধু’ কংগ্রেসকে সহযোগিতা করতে প্রার্থী দেয়নি বহরমপুর এবং মালদহ দক্ষিণে। ৪০ জন বাম প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র যাদবপুরের প্রার্থী বিকাশ ভট্টাচার্যই ২১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। যা সর্বোচ্চ।

বর্ধমান-দুর্গাপুর, বর্ধমান-পূর্ব, রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা দক্ষিণ, শ্রীরামপুর, দমদম, বারাকপুরে বাম প্রার্থীরা শতাংশের হিসাবে ‘ডাবল ডিজিটে’ পৌঁছেছেন।

তবে এই ৮টি কেন্দ্র ছাড়া বাকি ৩২টি কেন্দ্রে বাম প্রার্থীরা ধরাশায়ী হয়েছেন।

সিপিএমের পলিটব্যুরো এবং রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র পরাজয় মেনে নিয়েছেন।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস আসন সমঝোতা বামফ্রন্টের ক্ষতি করেছে তা স্বীকার করেন পার্টির নেতারা। রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদাই হারায় বামফ্রন্ট। বিরোধীদলনেতা সূর্যকান্ত পদচ্যুত হন। কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান হন নতুন বিরোধী দলনেতা। বাম ভোট নেমে আসে ২৬ শতাংশে। প্রবল মতবিরোধ এবং পার্টির মধ্যে বিভিন্ন সমান্তরাল মতামত জন্ম হয়। পার্টি কংগ্রেসে বদলে যায় সিপিএমের পলিটিক্যাল ট্যাকটিক্যাল লাইন।

নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকের পরেও আসন সমঝোতা করতে পারেননি সূর্যকান্ত মিশ্র-বিমান বসুর। যদিও বন্ধুত্বের খাতিরে কংগ্রেসকে বহরমপুর এবং মালদহ দক্ষিণ ছেড়ে দেয় বামফ্রন্ট। কিন্তু বামফ্রন্টের সিদ্ধান্তের বাইরে এসে বহরমপুরে প্রার্থী দেয় আরএসপি। এদিকে নির্বাচনোত্তর পর্বের জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই ঘর গুছিয়ে নেয় বিজেপি। নির্বাচনের শেষে দেখা গিয়েছে , বামফ্রন্টের ২৬ শতাংশ ভোট ৭.৫২ শতাংশে এসে ঠেকেছে। অন্যদিকে, ২০১৬ সালের ১২.২৫ শতাংশ ভোটকে বিজেপি ৪০.২৩ শতাংশে বাড়িয়ে নিয়েছে। বামেদের মহাপতনের পরই বিজেপির গেরুয়া পতাকা উড়েছে বঙ্গে।

পরিসংখ্যান : –

যে কয়েকটি কেন্দ্রে লড়াই করেছে বামফ্রন্ট প্রার্থীরা

১. যাদবপুর :- ২১ শতাংশ ভোট
২. বর্ধমান দুর্গাপুর :- ১১ শতাংশ ভোট
৩. কলকাতা দক্ষিণ:- ১২ শতাংশ ভোট
৪. শ্রীরামপুর:- ১১ শতাংশ ভোট
৫. দমদম:- ১৪ শতাংশ ভোট
৬. বারাকপুর:- ১১ শতাংশ ভোট