স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: বীরভূমের চিনপাই কালী মন্দিরের চুরি যাওয়া সোনার গহনার কিছু অংশ উদ্ধার করে রবিবার মন্দির কমিটির কাছে তা ফেরত দিল পুলিশ। সদাইপুর থানার ওসি তরুন চট্টরাজ সহ অনান্য আধিকারিকরা সন্ধ্যায় বড়মা কালীর মন্দিরে গিয়ে মূল সেবাইতের হাতে উদ্ধার হওয়া সোনার নাকের নথ, টিকলি ও গলানো সোনা তুলে দেন। একইভাবে গলানো রুপোও তুলে দেওয়া হয়।

মন্দিরের সেবাইত কৃষ্ণ গোপাল আচার্য জানান, আমরা আপাতত এই সোনা আমাদের হেফাজতে রাখলাম। যা দিয়ে ফের মায়ের গহনা করে দেওয়া হবে। এই সোনা উদ্ধারের আনন্দে সদাইপুর থানার পক্ষ থেকে মন্দিরে উপস্থিত গ্রামবাসীদের মিষ্টি মুখ করান হয়৷

আরও পড়ুন : প্রেমিকার বাড়ির সামনে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা প্রেমিকের

চিনপাই গ্রামের মূল উতসব কালী পুজো। গ্রামের মাঝে থাকা বড়মা কালী ও তার কিছুটা দূরেই ছোট মা কালী মন্দির। গ্রামবাসীদের কথায় প্রায় পাঁচশো বছরের পুরনো বড়মা কালীর কাছে মনস্কামনা পূর্ণ হলে ভক্তরা সোনার গহনা দেয়। ভক্তদের দানেই বড় মা কালীর সোনার মুকুট, আড়াই কেজি ওজনের রুপোর খাড়া, মালা, কোমরের বিছে, পায়ে রুপোর মল, সোনার জিভ সবই ছিল।

গ্রামের দাবি মত বড় মার সেই গহনা প্রায় ৫০ ভরি সোনার। কুড়ি কেজি রুপোর সামগ্রী ছিল। ছোট মায়ের ১০ ভরি। যা পুজোর সময় পরানো হয়। পুজো শেষে ফের তা থাকত পুরোহিতের কাছে। মন্দির ও মাকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব এতদিন সামলেছেন গ্রামবাসীরা। এবছরই রাত্রে এসে সদাইপুর থানার ওসি মায়ের মন্দির পাহারার দায়িত্ব নেয়। তারপর দিনই দুটি মন্দির থেকে গহনা চুরি যায়।

আরও পড়ুন : দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে লাভ হচ্ছে তৃণমূলের : জ্যোতিপ্রিয়

প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা দীর্ঘক্ষন জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। বদলি করা হয় ওসি কে। গহনা উদ্ধারে কমিটি গঠন করা হয়। গত দু মাসে বর্ধমান ও হুগলি থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছে বিক্রি করা গলানো সোনা উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে উদ্ধার হওয়া সেই সোনার পরিমান প্রায় ১৯ গ্রাম। এছাড়াও ২ টি কানের দুল, ছ’টি মাথার সোনার টিকলি উদ্ধার হয়েছে। গলানো রুপো উদ্ধার হয়েছে এক কেজি।

সেবাইত কৃষ্ণ গোপাল আচার্য জানান, আমরা ১৬ জনের একটি কমিটি গঠন করেছি। তাদের হেফাজতেই সোনাটি জমা রাখা হল। পরে সেটি দিয়ে মায়ের গহনা করে শুদ্ধিকরণ করে তা পরানো হবে। তবে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চিনপাই মন্দির নিয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে। আরও কারা জড়িত তার তল্লাশিও পাশাপাশি চলবে।