তিমিরকান্তি পতি (বাঁকুড়া): চলতি বর্ষার মরশুমে যখন শহর কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ‘ইলিশ উৎসবে’ মেতেছে মৎস্যপ্রিয় বাঙ্গালী, ঠিক তখন প্রায় হারিয়ে যেতে ফসে তালকে ঘিরে তিন দিনের ‘তাল উৎসব’ শেষ হলো বাঁকুড়ায়। কলকাতার একটি সংস্থার উদ্যোগে শহরের চাঁদমারিডাঙ্গার একটি বেসরককারী লজে এই উৎসবে দেখা মিললো তাল থেকে তৈরী নানান ধরণের পদ। আর এ নিয়ে শুধু শহরবাসী নয় জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

শুধুমাত্র ‘তাল’কে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এমনকি বর্তমান সময়ের কবি সাহিত্যিকরা অনেকেই অনেক কথাই লিখেছেন ও লিখছেন। ‘তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে’ পাঠ্য বইয়ে এই কবিতা দিয়ে বর্তমান শহুরে শিশুদের তাল গাছ চেনা শুরু। কিন্তু তালের স্বাদ তাদের চেখে দেখার সুযোগ হয়নি তাদের অনেকের। আর সেই সুযোগটাই করে দিল কলকাতার এই সংস্থা। হারিয়ে যেতে বসা তাল থেকে তৈরী নানান পদের স্বাদ ফিরে খুশি উৎসবে যোগদানকারী বড়রাও।

একটা সময় প্রাক্ পুজো মরশুমে ভাদ্রের এই মরশুমে তালকে গ্রামীণ বাংলায় যে কদর ছিল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমতে শুরু করেছে। তার কারণ যেমন তাল গাছের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে তেমনি ‘ফাস্ট ফুডে’ অভ্যস্ত হয়ে পড়া আমবাঙ্গালি বাড়িতে এই ধরণের খাবার তৈরীর পিছনে সময় ব্যায় করতে রাজি নয়। আর ঠিক সেই সময়ে প্রায় হারিয়ে যাওয়া তালের তৈরী নানান পদ বাঁকুড়াবাসীর সামনে হাজির করলেন আয়োজক সংস্থার কর্মীরা। বাইরে থেকে আমদানি করা নয়, উৎসবের হেঁশেল ঘরে দিন রাত এক করে এক ঝাঁক কারিগর চাহিদা মতো তৈরী করলেন তালের তৈরী লোভনীয় নানা পদ।

এখানে গত তিন দিন ধরে তালের ক্ষীর, তালের মালপোয়া, তালের মোমো, তাল ফুলুরি, তালের রুমাল রুটি, তালের কেক, তালের পোড়া পিঠে, তালের ইডলি, তালের কুলফি এমনকি এখান থেকে কিনে বাড়িতে নিজে পিঠে তৈরীর জন্য তালের মাড়িও কিনে যাওয়ার সুযোগ ছিল। আর সে সুযোগ হাতছাড়া করলেননা অনেকেই।

তাল উৎসবে যোগ দিয়ে বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা রবীন চ্যাটার্জ্জী বলেন, বাড়িতে তো সব পর্ব উঠেই গেছে। এই মেলার দৌলতে তালের বিভিন্ন ধরণের পদ খাওয়ার সুযোগ মিলছে বলে তিনি জানান। চিত্ররিখী দে বলেন, সময়ের অভাবে এখন আর বাড়িতে এসব করা হয়ে ওঠেনা। তাল উৎসবে এসে তালের নানান পদ খাওয়ার পাশাপাশি বাড়ির জন্যও তিনি নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।

অন্যদিকে, বাবা মায়ের সঙ্গে এই তাল উৎসবে যোগ দিয়ে এই প্রথমবার তাল দিয়ে খাবার খেয়ে বেজায় খুশি ছোট্ট সৌমিনা সেন। তার কথায় আর ফাস্ট ফুড নয়, তালের তৈরী খাবারই বেশী ভালো। নিজে এখানে খাওয়ার পাশাপাশি বাড়ির সবার জন্যও কিনে নিয়ে যাচ্ছে বলে সে জানায়।

উদ্যোক্তাদের পক্ষে দীপক ঘোষ বলেন, বাঁকুড়ায় তাল উৎসব এবার চতুর্থ বছরে পড়লো। প্রথম দিন থেকেই মানুষের বিপুল সাড়া মিলেছে। এবারেল উৎসবে প্রায় ২৩ রকমের তালের পদ থাকছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবার এখানে তালের চিনিও মিলছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বীরভূমে তারা তাল ও খেজুরকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন বলে তিনি জানান।