শংকর দাস, বালুরঘাট: নাটকের কথা উঠলেই সবার আগে উঠে আসে নাট্য ব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায় ও বালুরঘাট শহরের নাম। এই শহরেই অবস্থিত নাট্যমন্দির ত্রিতীর্থ নাট্যতীর্থ’র মত নাট্যমঞ্চ। এই শহরেরই বাসিন্দা ডঃ মন্মথ রায় ছিলেন বাংলা একাঙ্ক নাটকের জনক। অথচ এই শহরেই নাট্য উৎকর্ষ কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অপাংতেয় হয়ে গেলেন খোদ নাটকের বিশিষ্টজনরা।

হরিমাধব মুখোপাধ্যায় জিষ্ণু নিয়োগী প্রদোষ মিত্র মত নাট্য ব্যক্তিত্বদের কাউকে তাতে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি নাটকের দলগুলিকেও ব্রাত্য রেখে শনিবার বালুরঘাটে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন নাট্য উৎকর্ষ কেন্দ্রের উদ্বোধন হল। যা শুধু কলকাতা বা দিল্লীই নয়। এশিয়া মহাদেশের কোথাও এরকম অত্যাধুনিক দ্বিতীয় আর নেই। নাট্য উৎকর্ষ কেন্দ্রটি নির্মাণের মূল লক্ষ্যই হল নাটকের উৎকর্ষ বৃদ্ধি। অথচ এই অনুষ্ঠানে খোদ নাটকের দল তথা নাটকের সঙ্গে যুক্তদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এই শহরেরই ভূমিপুত্র বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব জাতীয় সম্মানে ভূষিত ও ডিলিট উপাধি প্রাপ্ত হরিমাধব মুখোপাধ্যায়কেও আমন্ত্রণ না জানানোয় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়ে সাংস্কৃতিক মহলে। ঘটনায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন খোদ তৃণমূল সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিপ্লব মিত্রও।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের ১২ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকায় নির্মিত ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা (এনএসডি)র অনুকরণে তৈরি বালুরঘাটের এই নাট্য উৎকর্ষ কেন্দ্র। এখানে ব্যবহৃত ব্ল্যাক বক্স আলোক প্রক্ষেপক ও সাউন্ড সিস্টেম এতটাই অত্যাধুনিক যে এশিয়ায় আর কোথাও এমনটা ব্যবহার হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই এই কেন্দ্রটি নিয়ে নাটক তথা সংস্কৃতির শহরের আলাদা উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছিল।

কিন্তু শনিবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খোদ নাটকের জগতের বিশিষ্টজনদের আমন্ত্রণ না জানানোয় সেই উদ্দীপনা ম্রিয়মাণ হয়ে গিয়েছে। যা নিয়ে বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে। এদিনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিপ্লব মিত্র, সাংসদ অর্পিতা ঘোষ, দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বাচ্চু হাসঁদা সহ অনেকেই।

বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব জিষ্ণু নিয়োগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সত্যিই এটা এই শহরের মানুষদের লজ্জা। মমতা বন্দোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নাট্য আঙিনার গর্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায়ই প্রথম বালুরঘাটে উৎকর্ষ কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কাউকে না হলেও অন্তত তাঁকে বিশেষ এই দিনটিতে আমন্ত্রণ জানানো যেতেই পারত।

আরেক নাট্য ব্যক্তিত্ব প্রদোষ মিত্র জানিয়েছেন, বিষয়টি শুধু নাটকের সঙ্গে জড়িত মানুষদেরই লজ্জিত করেছে নাটকের শহরকেও। কারণ সকলেই এই শহরকে নাটকের শহর বলেই জানেন। আরও ভাবতে অবাক লাগছে সাংসদ অর্পিতা ঘোষ নিজে একজন নাট্য ব্যক্তিত্ব হয়েও এই বিষয়ে সদর্থক ভূমিকা পালন করলেন না।

যদিও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদার মতে, আসলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করার জন্য আর কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে পরবর্তীতে এই কেন্দ্রে বড়সড় আয়োজনে নাট্য উৎসব করা হবে। সেখানে অবশ্যই নাটকের লোকেদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।