কলকাতা- নাট্যব্যক্তিত্ব সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। অবশেষে সেই নাট্যকারকে শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করল ফুলবাগান থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, সেই সুদীপ্ত তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার করেছেন।

বুধবার রাতে সুদীপ্তরই নাটকের দল স্পেকটেটরস-এরই এক অভিনেত্রী তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনেন। সুদীপ্ত এছাড়াও এক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেন। তরুণীর অভিযোগ, সুদীপ্তর বাড়িতে নাটকের মহড়া হতো। কিন্তু একদিন তাঁর বাড়ি গিয়ে দেখেন নাটকের দলের অন্য কেউই সেখানে নেই। বাড়তি সুদীপ্তর স্ত্রীও ছিলেন না। সেই সুযোগেই তাঁকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ তরুণীর।

অভিযোগকারিনী জানিয়েছেন, সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় তাঁকে প্রথমে মানসিক ভাবে দুর্বল অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। আর তার পরেই তাঁকে ধর্ষণ করেন সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়।

প্রথমে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছিলেন, ওই ছাত্রীই তাঁর ভুল সংশোধন করার অনুরোধ করেছিলেন এবং তাঁর অভিনয়ে অনেক ভুল ছিল। সেই ভুল শুধরে দিতেই ডায়াফ্রাম ব্রিদিং টেকনিক ব্যবহার করেছিলেন বলে দাবি সুদীপ্তর। আর সেই প্রক্রিয়াতে কিঞ্চিৎ নগ্নতা ও শরীরী ঘনিষ্ঠতা প্রয়োজন ছিল। আর তা তরুণীর সম্মতি নিয়েই হয়েছিল বলে জানান তিনি। কোনও যৌন অভিপ্রায় ছিল না।

কিন্তু এই তরুণী একা নন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিতে একাধিকা মহিলা সুদীপ্তর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা ও ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। অন্য এক তরুণীও বেলেঘাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। শুক্রবার সুদীপ্তর বাড়িতে যায় ফুলবাগান থানার পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীনই তিনি ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।