কলকাতা- বাংলা নাট্য়জগতে ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়ায়। নাট্যব্যক্তিত্ব সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা ও ধর্ষণের অভিযোগ আনলেন এক তরুণী। স্পেকটেটরস নামের একটি দলের সঙ্গে যুক্ত সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগকারিনী ফেসবুকে পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন লম্বা পোস্টের মাধ্যমে।

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় এক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মিডিয়া সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক। সেই প্রতিষ্ঠানেরই ছাত্রী হলেন অভিযোগকারিনী তরুণী। তরুণী জানান, সুদীপ্তর বাড়িতে নাটকের মহড়া হতো। কিন্তু একদিন তাঁর বাড়ি গিয়ে দেখেন নাটকের দলের অন্য কেউই সেখানে নেই। বাড়তি সুদীপ্তর স্ত্রীও ছিলেন না। সেই সুযোগেই তাঁকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ তরুণীর।

অভিযোগকারিনী জানিয়েছেন, সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় তাঁকে প্রথমে মানসিক ভাবে দুর্বল অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। আর তার পরেই তাঁকে ধর্ষণ করেন সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাট্যকার। তাঁর দাবি, ওই ছাত্রীই তাঁর ভুল সংশোধন করার অনুরোধ করেছিলেন এবং তাঁর অভিনয়ে অনেক ভুল ছিল। সেই ভুল শুধরে দিতেই ডায়াফ্রাম ব্রিদিং টেকনিক ব্যবহার করেছিলেন বলে দাবি সুদীপ্তর। আর সেই প্রক্রিয়াতে কিঞ্চিৎ নগ্নতা ও শরীরী ঘনিষ্ঠতা প্রয়োজন ছিল। আর তা তরুণীর সম্মতি নিয়েই হয়েছিল বলে জানান তিনি। কোনও যৌন অভিপ্রায় ছিল না বলে দাবি করেছেন সুদীপ্ত।

সুদীপ্ত জানিয়েছেন, কেউই এর আগে এমন অভিযোগ আনেননি। কিন্তু এই অভিযোগকারিনী তাঁর অভিজ্ঞতার সামনে আনতেই অনেক অভিনেত্রীই দাবি করেছেন, তাঁদের সঙ্গেও একই রকম আচরণ করেছিলেন সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়। একাধিক মহিলাকে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারিনীর এই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সুদীপ্তকে পদত্যাগ করার দাবি ওঠে। তবে অভিযোগকারিনী বা অন্যান্য নির্যাতিতারা সুদীপ্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করবেন কি না বা কবে করবেন তা এখনও জানা যায়নি।