স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাবা-মাকে চিরতরে হারিয়ে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চরম সিদ্ধান্ত নিলেন ১৯ বছরের এক তরুণী৷ শুক্রবার রাতে কলকাতার তিলজলা থানার পুলিশ চৌবাগা রোডের বাড়ি থেকে তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন৷ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে স্থানীয় হাসপাতালে৷ প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বাবা-মা’কে হারিয়ে একাকিত্বের জেরেই উত্তরা চৌধুরী ওরফে জুয়েল এই চরম সিদ্ধান্ত নেয়৷ এলাকায় শান্ত স্বভাবের হিসেবেই পরিচিত ছিল উত্তরা৷ স্বভাবতই, তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া৷

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের খবর, মাত্র ১৫ বছর বয়সে ২০১৪ সালে বাবাকে হারান উত্তরা৷ তখন থেকেই তিনি কার্যত মনমরা হয়েছিলেন৷ তারওপর মায়েরও শরীর ভালো ছিল না৷ বেলভিউ হাসপাতালে ভরতি ছিলেন উত্তরার মা। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়৷ মাকে হারিয়ে কান্না তো দুরস্ত কার্যত গুম মেরে যান উত্তরা৷ পরিবার সূত্রের খবর, মাকে হারানোর পর থেকে একটুও কাঁদেনি উত্তরা৷ উল্টে একেবারে চুপ হয়ে গিয়েছিল সে৷

শুক্রবার রাতে স্থানীয়রা জানলা দিয়ে দেখতে পান ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ওড়নায় ঝুলছে উত্তরার দেহ৷ খবর পেয়ে তিলজলা থানার পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেহটি উদ্ধার করে৷ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবার সূত্রের খবর, মামা- মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলেন উত্তরা৷ বাবা-মা দু’জনকেই সে বড় বেশি ভালোবাসত৷ বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল শান্ত স্বভাবের উত্তরা৷ মাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করলেও সেখানে বাধ সাধে নিয়তি। শুক্রবার মায়ের মৃত্যুর পর নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চরম সিদ্ধান্ত নেয় সে৷ ঘটনার জেরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া৷

স্থানীয় ও পরিবারের অন্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক তদন্ত থেকে পুলিশের অনুমান, বাবা-মাকে হারিয়ে শোকে, একাকিত্বে আত্মহত্যার পথকেই বেছে নিয়েছেন বছর ১৯ এর তরুণী৷ যদিও পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷