তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: নাম শুভেন্দু কুচলান। বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা৷ পেশায় সাইকেল সারাইয়ের মিস্ত্রি৷ এই যুবকের বরাবরের স্বপ্ন একটি বাইকের। কিন্তু অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে তা আর হয়ে উঠছিল না।

অথচ স্বপ্নপূরণ করাও চাই৷ তাই নিজের স্বপ্নপূরণ করতে নিজেই তৎপর হলেন তিনি। শহরের বড় কোনও ঝাঁ চকচকে শো রুম থেকে নামীদামী ব্র্যান্ডের বাইক নয়। নিজের উদ্ভাবনী শক্তি দিয়েই এই যুবক তৈরি করে ফেললেন তাঁর স্বপ্নের বাইক। যা দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন কেঞ্জাকুড়া বাজারে শুভেন্দুদের সাইকেল সারানোর দোকানে।

আরও পড়ুন: গান্ধীগিরিতে নয়, নেতাজীর সশস্ত্র সংগ্রামেই এসেছে স্বাধীনতা

শুভেন্দু কুচলান তাঁর তৈরি বাইকের নাম রেখেছেন স্ট্যালিন হোম মেড বাইক। কী কারণে নব নির্মিত বাইকটির এমন নামকরণ তা খোলসা করতে চাননি নির্মাতা শুভেন্দু কুচলান। তবে তিনি জানিয়েছেন, এই বাইকটি তৈরি করতে খরচ পড়েছে মাত্র ১৫ হাজার টাকা। বাইকটি কেরোসিন, পেট্রোল এবং ডিজেল তিন রকম জ্বালানিতেই চলে।

তিনি জানান, কেরোসিনে চালালে এক লিটারে ৭০ কিলোমিটার যাওয়া যায়। তবে পেট্রোল বা ডিজেলে আরও বেশি মাইলেজ পাওয়া যাবে। দু’জনে স্বাচ্ছন্দ্যে বসার ব্যবস্থা যুক্ত এই বাইকের ঘণ্টায় স্পিড ৮০ কিলোমিটার।

আরও পড়ুন: আজ মিটিং, কাল শ্যুটিং

বাইকটির চ্যাসিসটি বানানো হয়েছে লোহার পাইপ ও লোহার পাত দিয়ে। বাইকের তেল ট্র্যাঙ্ক, সাইডের ডিজাইন, ভাইজার সবই বানানো হয়েছে লোহার পাত দিয়ে। বাইকে আছে ডিজিটাল মিটার। যেটি রেসিং সাইকেল থেকে নেওয়া। বাইক থেকে নেওয়া হয়েছে চেন, হ্যান্ডেল ও সকার। সাইকেল থেকে নেওয়া হয়েছে চাকা ও ডিসব্রেক।

জল পাম্প থেকে নেওয়া হয়েছে ইঞ্জিন। জেনারেটর থেকে নেওয়া হয়েছে পিস্টন রিং। কার্বোডাইডার নেওয়া হয়েছে হিরোহন্ডা সিডি ১০০ এস এস থেকে। ট্রান্সমিশন গিয়ার লেস। বেল্ট ফুলি ও চেন সিস্টেম দুটিই আছে। বাইকে নেই ক্লাচ প্লেট৷ কিন্তু ক্লাচ রয়েছে। বাইকটির আনুমানিক ওজন প্রায় ৬০ কেজি। ২৪ ঘণ্টা চললেও এর কোনও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই শুভেন্দুবাবু জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ঋণের দায়ে আত্মঘাতী হলেন এক শ্রমিক

এই অভিনব বাইকের নির্মাতা শুভেন্দু কুচলান বলেন, ‘‘অনেক দিনের শখ ছিল বাইক কেনার। বাইক কিনতে বাঁকুড়া শহরের কাটজুড়িডাঙার একটি শো রুমে গিয়েও ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছি। পরে তিন বছরের চেষ্টায় নিজে নিজেই এই বাইক তৈরি করি। ফলে মাত্র কুড়ি থেকে পঁচিশ হাজার টাকা খরচ করেই অনেক মানুষের সাধ পূরণের পাশাপাশি গন্তব্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।’’ পাশাপাশি কারিগরী বিদ্যা প্রসঙ্গে সে জানায়, কোনও রকম যান্ত্রিক ত্রুটি হলে সাধারণ মানের সাইকেল দোকানেও এই বাইক সারানো সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: হাতে-হাত মিলিয়ে সন্ত্রাস দমনের পাঠ ভারত-পাকিস্তানের

স্থানীয় বাসিন্দা বিদ্যাবতী কর্মকার বলেন, ‘‘শুভেন্দু চাকরি না পাওয়ায় তাঁর বাবার সাইকেল সারাইয়ের দোকানে কাজ করতেন। বহুদিনের স্বপ্ন থাকলেও বাইকের অনেক বেশি দাম হওয়ায় সে কিনতে পারেনি। তাই সে পরবর্তী ক্ষেত্রে বাইকটি তৈরি করেন। এই বাইক তৈরির পিছনে তাঁর ভাই ও বাবার সাহায্য রয়েছে৷ সেই সঙ্গে ছিল গ্রামের মানুষের উৎসাহ৷ যদি সরকারের তরফে এই বিষয়ে কিছু সাহায্য সহযোগিতা পায় তবে এই কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর সুবিধাই হবে।’’

আরও পড়ুন: দেশহীন রোহিঙ্গা ঘুসির জোরে চাইছে আত্মসম্মান

অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল পরিবারের বেকার ছেলে যারা প্রচুর দামের কারণে বাইক কিনতে পারছেন না তার এই বাইক কিনে নিজেদের শখ মেটাতে পারবে৷ জ্বালানীর খরচও অনেকটা সাশ্রয় হবে বলে তাঁরা মনে করছেন।