স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: একের পর এক গণধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে দেশ জুড়ে। রাত হোক বা দিন গোটা দেশের কোনও প্রান্তেই যে মহিলারা এখনও পুরোপুরি সুরক্ষিত নয় তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে অনেকেই। পর পর ঘটে যাওয়া বর্বরোচিত খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় দেশের মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে অনেকে আবার সরাসরি আঙুল তুলেছে আইন ও শৃঙ্খলার দিকে।

এবার সেই সুরে সুর মিলিয়েও, পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের নিরাপত্তা কোথায় তা নিয়ে কার্যত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলধোনা করলেন বিজেপির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। সারা দেশের মত বাংলাতেও যে ভাবে ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলেছে তাতে উদ্বিগ্ন বিজেপি সাংসদ। সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এই ‘পশ্চিমবঙ্গে মহিলারা সুরক্ষিত নয়’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি, মালদহ গণধর্ষণ-খুন কাণ্ড নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে গিয়ে বিজেপি সাংসদ বলেন, ”পরপর দুটো ঘটনায় গা শিউরে ওঠে। তিন বছরে একটা বাচ্চাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সে একটা অবলা শিশু। এটা ভাবা যায় না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের তরফ থেকে সেই রকম তৎপরতা কিছুই দেখছিনা। আমি হসপিটাল সুপারের কাছে এসেছি। যতক্ষণ না পর্যন্ত বাচ্চাটা শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ হবে ততক্ষণ তাঁকে যাতে হাসপাতাল থেকে না ছাড়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, হায়দরাবাদ কাণ্ডের ঠিক পরেই ধানতলাতে একজন কিশোরীকে আরও নৃশংসভাবে ধর্ষণ করে জ্যান্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে ট্রেস করতে পারেনি পুলিশ। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে কি আছে তা সুপার বলতে রাজি হননি বলেও জানান তিনি।

‘পুরো বিষয়টি আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। মালদহের ঘটনা হায়দরাবাদের ঘটনার চেয়েও বড়।’ কিন্তু, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কেন চেপে যাচ্ছেন? একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়টি কেন চেপে যাচ্ছেন তা নিজে একজন মহিলা হিসেবে খুব খারাপ লাগছে বলে জানান তিনি। ‘আগামিদিনে মহিলারা মুখ্যমন্ত্রীর ওপর থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছেন। ইচ্ছাকৃতভাবে ধানতলার ঘটনায় ধর্ষণের কোনও উল্লেখ করছে না। পুলিশ হয়তো বাবা-মায়ের খোঁজ পেয়েছে তাদের মুখ বন্ধ করে রেখেছে। মেয়েটির মুখ দিয়ে আর বলার মত কোনও জায়গা নেই।’

তিনি জানান, ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশ বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কারণ, হায়দরাবাদ নিয়ে যেমন নিন্দা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ নিয়েও নিন্দা হবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলা হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমবাংলায় বেশি মহিলারা অত্যাচারিত হয়েছে। এতগুলো ঘটনা ঘটেছে কিন্তু নির্যাতিতারা কোথাও বিচার পাচ্ছেন না, অপরাধীদের বিচার হচ্ছে না। এটা কেন হবে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাজনৈতিকভাবে প্রত্যেকটি বিষয়ের মধ্যে ঢুকে পড়া হচ্ছে, এবং ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। নির্ভয়া কাণ্ডের বিচার হয়নি। কামদুনি কাণ্ডের বিচার হয়নি। কোনও বিচারই পশ্চিমবাংলায় এখনও পর্যন্ত হয়নি। লকেট বলেন, যারা মারা গিয়েছে তাদের জন্য খুব কষ্ট হয়েছে।

নারী সুরক্ষার জন্য এমন আইন আনা উচিত যাতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে পনেরো কুড়ি দিনের মধ্যে তাদের ফাঁসি দেওয়া যায়। যে ভাবেই হোক ধর্ষকদের হত্যা করা হোক। তাদেরকে একদম নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া উচিত। এই ধরনের বিচার হলে অপরাধের সংখ্যাও কমবে।

উন্নাওের ঘটনায় নির্যাতিতার মৃত্যু নিয়েও দুঃখ প্রকাশ করেন লকেট। তিনি আরও বলেন, উন্নাও নিয়ে হায়দরাবাদ নিয়ে এত কথা বলছি, কিন্তু পশ্চিম বাংলার একজন সাংসদ হিসাবে তাঁর খুব খারাপ লাগে। পশ্চিমবাংলার মানুষ কেন চুপ? মুখ্যমন্ত্রী কেন চুপ? পশ্চিমবাংলায় নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে। সারাদেশ যখন তোলপাড় হচ্ছে হায়দরাবাদ নিয়ে তখনই, পশ্চিম বাংলার মানুষের উচিত তোলপাড় করা। আস্তে আস্তে পুরো পশ্চিমবঙ্গটা মহিলাদের জন্য অসুরক্ষিত হয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বিজেপি সাংসদ।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও