স্টাফ রিপোর্টার, চুঁচুড়া: বাম-কংগ্রেসের ব্রিগেডের দিনই তালা ঝুলল হুগলির ওয়েলিংটন জুটমিলে। কাজ হারালেন অন্তত ২ হাজার শ্রমিক। রবিবার সকালে কাজে যোগ দিতে গিয়ে শ্রমিকরা দেখেন, রিষড়ার ওয়েলিংটন জুটমিলের গেটে সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিশ। দেখেই মাথায় হাত পড়ে তাঁদের। প্রতিবাদে সকালেই জিটি রোড অবরোধ করেন শ্রমিকরা।

কংগ্রেস পরিচালিত আইএনটিইউসি-র (INTUC) অভিযোগ, রাজ্য সরকারের উদাসীনতায় প্রাচীন ওয়েলিংটন জুটমিলের এই পরিস্থিতি। এ নিয়ে শ্রম দফতরের সঙ্গে একপ্রস্ত আলোচনার পরও সমস্যার জট কাটেনি বলে খবর। শ্রমিকদের একাংশের আশঙ্কা, পরিস্থিতি যেমন, তাতে জুটমিল ফের নাও খুলতে পারে। সেক্ষেত্রে স্থায়ীভাবেই বন্ধ হয়ে যাবে রাজ্যের আরও একটি জুটমিল।

গত বছর ডিসেম্বর মাসেই এক সহকর্মীকে ‘অনৈতিক’ ভাবে বের করে দেওয়ার প্রতিবাদে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন রিষড়ার ওয়েলিংটন জুটমিলের শ্রমিকেরা। তৎক্ষণাৎ ‘সাসপেনশন অব ওয়ার্ক’ ঘোষণা করে দেয় মিল কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের একাংশের সেই সময় অভিযোগ করেছিলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ নিয়ম-নীতি মানছেন না। ২০০০ লোকের কাজ করার কথা। অথচ, ১২০০-১৩০০ লোক কাজ করছেন। বাকিরা কাজ পাচ্ছেন না। বদলে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। কাউকে স্থায়ী করা হচ্ছে না। শ্রমিকদের ইএসআই, প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা পড়ছে না।

তাৎপর্যপূর্ণ হল, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও তালা ঝুলেছিল হুগলির ওয়েলিংটন জুটমিলে। হোলির ছুটির পর কাজে যোগ দিতে গিয়ে শ্রমিকদের মাথায় হাত পড়েছিল। কারখানা বন্ধের কারণ হিসেবে শ্রমিক অসন্তোষ এবং কাঁচামালের অভাবকে দায়ী করেছে জুটমিল কর্তৃপক্ষ। যদিও শ্রমিকদের অভিযোগ ছিল, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মিলে সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিস ঝুলিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

করোনা ও লকডাউনের জেরে এমনিতেই ক্ষতির মুখে রাজ্যের শিল্পাঞ্চলগুলি।আনলক পর্বে সেই স্থবিরতা কাটলেও লাভের মুখ দেখা সেভাবে সম্ভব হয়নি। তারউপর রাজ্যের বিভিন্ন কলকারখানায় উৎপাদন নিয়ে শ্রমিক-মালিক অসন্তোষ লেগেই আছে। তারমধ্যেই বন্ধ হল জুটমিল৷

সম্প্রতি বঙ্গ সফরে এসে নৈহাটির গৌরীপুর অস্থায়ী জুট মিল শ্রমিকের বাড়িতে মধ্যাহ্ন ভোজন সেরেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। দেবনাথ যাদব নামে ওই জুট মিল শ্রমিকের কাজ চলে গিয়েছিল জুট কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখন অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। রাজ্যের শিল্প নিয়ে সরব বিজেপি জুটমিল শ্রমিকের বাড়িতে মধ্যাহ্ন ভোজন সেরে মমতা সরকারকে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা নিয়ে বার্তা দিতে চেয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.