তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: জেলার অন্যতম প্রাচীণ ও ঐতিহ্যবাহি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজের খেলার মাঠ পরিস্কারে হাত লাগালেন প্রাতভ্রমণকারীরা। বুধবার সকাল থেকেই তারা এই কাজে হাত লাগান।

‘প্লাষ্টিক মুক্ত এলাকা’ হিসেবে ঘোষিত হলেও কলেজের মাঠে যত্রতত্র পড়ে রয়েছে প্লাষ্টিক, নানান প্লাষ্টিকজাত দ্রব্য থেকে থার্মোকলের থালা বাটি। প্রতিদিন এখানে শহরের বিভিন্ন প্রান্তের নানান বয়সী অসংখ্য সাধারণ মানুষ প্রাতভ্রমণে আসেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে এবার সেই প্লাষ্টিক ও থার্মোকল পরিস্কারে মাঠে নামলেন সংশ্লিষ্ট প্রাতভ্রমণকারীরাই।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি খ্রিস্টান কলেজের এই মাঠে সরকারি পর্যায়ে একটি ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। তারপরেই মাঠের এই অবস্থা। প্রতিযোগীতা শেষে আয়োজক কিম্বা কলেজ কর্তৃপক্ষ কেউই ওই মাঠ পরিস্কারের উদ্যোগ নেননি বলে অভিযোগ। সেই কারণেই প্রাতভ্রমণকারীরাই নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে এই মাঠ পরিস্কারে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

প্রাতভ্রমণকারীরা উদ্যোক্তাদের এই ভূমিকায় যথেষ্ট বিস্মিত। তাদের দাবী, প্রশাসনিক স্তরে বাঁকুড়া শহরকে যখন প্লাষ্টিক মুক্ত করার চেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই শহরের এই প্রথম শ্রেণীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে অনুষ্ঠানের ৪৮ ঘন্টা পরেও অসংখ্য প্লাষ্টিক ও প্লাষ্টিকজাত দ্রব্য পড়ে থাকায় তারা অবাক হয়েছেন। তাই পরিবেশের সুরক্ষার কথা ভেবে তারা প্লাষ্টিক মুক্ত করে ওই মাঠটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কলেজ ছাত্রী মণিকা দাস বলেন, ‘শুধু কলেজ কর্তৃপক্ষ নয়। মাঠটিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমাদের কম বেশী সকলেরই থাকে। যারা এই মাঠে ক্রীড়া প্রতিযোগীতার আয়োজন করেছিলেন সবার আগে তাদের উচিৎ ছিল এই মাঠটিকে প্লাষ্টিক আর থার্মোকলের আবর্জনার স্তুপ না বানিয়ে তা পরিস্কার করে দেওয়া।’ কিন্তু তারা সেই কাজ করেননি বলেই তিনি দাবী করেন।

শহরের শুভঙ্কর সরণীর বাসিন্দা, প্রাতভ্রমণকারী করবী চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘আমরা যারা প্রতিদিন সকালে এখানে হাঁটতে আসি তারা এসে মাঠের এই অবস্থা দেখে হতবাক্। প্রায় পুরো মাঠ জুড়ে প্লাষ্টিক আর প্লাষ্টিকের বোতলে ভরে গিয়েছে।’ শহরের ঐতিহ্যবাহী এই মাঠটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে সাফাইয়ের কাজে নেমেছেন বলে তিনি জানান।

কেন্দ্রের ও রাজ্য সরকারের পৃথক তরফে পরিবেশ রক্ষায় ‘স্বচ্ছ ভারত’ আর ‘নির্মল বাংলা’ নামে পৃথক দু’টি প্রকল্প রয়েছে। যে কর্মসূচী সারা দেশ ও রাজ্যের সঙ্গে বাঁকুড়া জেলা জুড়েও চালু রয়েছে। তারপরেও ‘প্লাষ্টিক মুক্ত এলাকা’ হিসেবে ঘোষিত ঐতিহ্যবাহী বাঁকুড়া খ্রীশ্চান কলেজ মাঠে প্রশাসনিক স্তরের এক ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় অবাধে প্লাষ্টিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগীতার আয়োজকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শহরবাসীর একাংশ।