স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: দেশ জুড়ে যখন স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পের ঝড় উঠেছে, তখনই মালদহের গ্রাম পঞ্চায়েতে  শৌচাগার বানানোর পুরো টাকাই গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল জেলার রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চায়েত অফিস ভাঙচুর চালালো গ্রামবাসীরা। এই ভাঙচুরের প্রধান ভূমিকায় ছিলেন এলাকার মহিলা ও বৃদ্ধেরা।

অভিযোগ, কিছুদিন আগে বন্যার ফলে ঘরবাড়ির সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর শৌচাগার জলে নষ্ট হয়ে যায়। বিডিও এবং মহানন্দাটোলার প্রধান সুখেন যাদব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষতিগ্রস্থ সকলেরই শৌচাগার বানিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু কয়েক মাস কেটে গেলেও কাজে কোনও গতি নেই। ফলে প্রতিদিনই বাড়ির মহিলা সহ সকলকেই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঝোপঝাড়, পুকুর পাড় বা আম বাগানে যেতে হচ্ছে। ফলে অসুবিধার মধ্যে পড়ছে হচ্ছে৷

বাড়ির মহিলাদের অভিযোগ যখনই তাঁরা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে আম বাগানে বা অন্য কোথাও যাচ্ছে তখনই কিছু খারাপ লোক এই দৃশ্য মোবাইল বন্দী করছে। স্বাভাবিকভাবেই তাতে মহিলাদের সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। এইজন্য তাঁরা একাধিকবার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সহ অন্যান্য আধিকারিকদের দ্বারস্থ হয় কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি।

পাশাপাশি কংগ্রেস পরিচালিত এই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, তাঁদের শৌচাগার বানানোর টাকা পঞ্চায়েত এ আসলেও পুরো টাকাই গায়েব হয়ে গিয়েছে। কিন্তু দেখানো হয়েছে প্রত্যেক বাড়িতে শৌচাগার বানানো হয়েছে৷ তাই এদিন বাধ্য হয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় গ্রামবাসীরা। অফিসের দরজা, টেবিল,চেয়ার আলমারি সব কিছুই ভেঙে দেয়৷ এমনকি পঞ্চায়েত সচিব ও এক কর্মীকেও হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ৷

দেশ জুড়ে যখন স্লোগান উঠেছে স্বচ্ছ ভারতের, ঠিক তখনই মালদহের এই গ্রামে শৌচালয় নিয়ে অনিয়ম, ক্ষোভ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।