স্টাফ রিপোর্টার, বোলপুর: আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে চিন যাচ্ছেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী৷চিনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়, সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয় ও বেজিং-এর পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বক্তব্য রাখবেন।

দু’দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে চিনের অ্যাকাডেমি অফ সোশাল সায়েন্স। আমন্ত্রণ পেয়ে খুশি বিদ্যুৎবাবু৷ তিনি বলেন, “আমাকে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে আমি যেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ডেভেলপমেন্টের ভাবনা চিন্তা এবং মোহনদাস গান্ধির ডেভেলপমেন্টের ভাবনা চিন্তা নিয়ে আলোচনা করি। আমরা বরাবরই পাশ্চাত্যের চিন্তা ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছি। সেখানে আমরা যাতে আমাদের ভাবনা চিন্তাগুলি এগিয়ে নিয়ে আসতে পারি এটা তারই হয়তো একটা প্রচেষ্টা। মূল উদ্দেশ্য দুই দেশের সম্পর্ক আরও মসৃণ করে তোলা।”

১৯২৪ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিন ভ্রমণে গিয়েছিলেন। অধ্যাপক তান ইয়ুনশানের সহযোগিতাতেই ১৯৩৭ সালের ১৪ এপ্রিল চৈনিক বিদ্যাচর্চা কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল বিশ্বভারতীতে।যা ভারতে প্রথম।তান ইয়ুনশান ছিলেন ‘চিনাভবন’-এর প্রতিষ্ঠাতা-অধ্যক্ষ৷চিনের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে চীনা ভবন প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন তান। সে দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবী, এমনকী রাষ্ট্রপ্রধানেরও সহযোগিতা ও আন্তরিক সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে জোগাড় করেছেন অসংখ্য চিনা বই।

নববর্ষের দিন চীনা ভবনের উদ্বোধন করে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘‘এ দিনটি আমার কাছে বস্তুতই একটি স্মরণীয় দিন।… ভারতবাসী ও চীনবাসীর মধ্যে সংস্কৃতি ও বন্ধুত্ব আদানপ্রদানের একটি ব্যবস্থার পত্তন আজ করা গেল।…’’ অনেক উৎসব-অনুষ্ঠান হয়েছে এখানে৷ রবীন্দ্রনাথ তো ছিলেনই, এই ভবনে এসেছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সরোজিনী নাইডু, জেনারেল চিয়াং কাইশেক সহ দেশবিদেশের বহু গুণী-জ্ঞানী।

চীনা ভবনে এই মুহূর্তে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও গবেষণারত মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা দেড়শোরও বেশি। চিন ও ভারতের শিক্ষা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে মৈত্রী স্থাপনে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য চীনা ভবন-কে ‘পঞ্চশীল’ স্মারক সম্মান দিয়েছে চিন। বিশ্বভারতীর ‘চিনাভবন’ সংস্কার ও পঠন-পাঠনের পরিকাঠামোর উন্নয়নের জন্য চিন সরকার ইতিমধ্যেই ৬০ লাখ টাকা দিয়েছে।সাংহাই গ্রন্থাগার বছরে একশোটি করে বই উপহার দিচ্ছে চীনা ভবন গ্রন্থাগারকে। সমকালীন চিনা সাহিত্য, চিনের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, অর্থনীতি ও বিদেশনীতির বিষয়ে পঠনপাঠনের জন্য বহু মূল্যবান গ্রন্থ সংগৃহীত হয়েছে। চীনা ভবনের দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থাগারটির আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। চিনের দূতাবাসের সঙ্গে একটি আলোচনায় স্থির হয়েছে, এবার থেকে সেদেশের সরকার বিশ্বভারতীর সামগ্রিক উন্নয়নে সহযোগিতা করবে।