নয়াদিল্লি: সারদা মামলায় রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করে সিবিআই জেরা করতে পারবে কিনা তা আজই স্পষ্ট হয়ে যাবে৷ আজ সকাল সাড়ে দশটায় রাজীব কুমার মামলার রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট৷ পাশাপাশি দেশের শার্ষ আদালত জানিয়ে দেবে ভুয়ো অর্থলগ্নি সংস্থা তদন্তে সিবিআইকে রাজ্য সরকার কোনও অসহযোগিতা করেছে কিনা এবং তা আদালত অবমাননার সমতুল কিনা সে বিষয়টিও৷

রাজীব কুমার মামলার শুনানি হয় দেশের শার্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে৷ বর্তমানে গরীশ্মকালীন অবসর চলছে কোর্টে৷ এই পরিস্থিতিতে এদিন রাজীব কুমার মামলার রায় দেবেন অবসরকালীন বেঞ্চের সদস্য বিচারপতি সঞ্জীব খান্না৷ যদিও, এদিন যে রায়ই হোক না কেন তা প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের অন্তর্গত তিন সদস্যেরই নেওয়া৷ রায় কেবল পড়ে শোনাবেন বিচারপতি সঞ্জীব খান্না৷

মূলত সারদা সহ বিভিন্ন টিটফান্ড সংস্থা সম্পর্কিত তদন্তে কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল অসহযোগিতা করছেন বলে আদালতে অভিযোগ করে সিবিআই৷ তদন্তের স্বার্থে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় গোয়েনন্দা সংস্থার আধিকারীকরা৷ সেই মামলার রায়দান স্থগিত রাখেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। তখন জানা গিয়েছিল, গ্রীষ্মের ছুটির পর আদালত খুললে রায় দেওয়া হবে।

এর মধ্যেই গত বুধবার রাতে নির্দেশ জারি করে সিআইডি-র অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেলের পদ থেকে কমিশন সরিয়ে দেয় কাজীব কুমারকে৷ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে হাজিরাও দেন তিনি। জানা যায়, এরপরই বঙ্গভবনে ফিরে সারাদিন সেখানেই ছিলেন তিনি৷ সূত্রের খবর, ওই আইপিএসকে নজরবন্দি করে রাখা হয়৷

সারদা সহ অন্যান্য ভুয়ো অর্থলগ্নি সংস্থার দুর্নীতির তদন্তের উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালে সিট গঠন করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার৷ এই সিটের দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের প্রধান রাজীব কুমার। ২০১৪-য় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভুয়ো অর্থলগ্নি সমস্থার তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।

২০১৮ সালে সিবিআই অভিযোগ করে, তদন্ত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ লোপাট অথবা নষ্ট করা হয়েছে৷ যার দায় বর্তায় সিটের প্রধান আইপিএস রাজীব কুমারের উপরই৷ এই সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চিঠিও দেয় সিবিআই। অভিযোগ, বারংবার চিঠি পেয়েও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দেননি রাজীব৷

তদন্তের স্বার্থে এবছরের ৩ ফেব্রুয়ারি রাজীব কুমারের সরকারি বাসভবনে পৌঁছয় সিবিআই-এর ৪০-সদস্যের একটি দল। কিন্তু কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকদের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় তাদের কলকাতার নগরপালের সরকারি বাড়িতে প্রবেশে বাধা দেয় পুলিশ৷ মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সিবিআইকে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধর্নায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

সেই সময় কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে সিবিআই৷ কোর্টজানায় তখনকার মত মতো গ্রেফতার করা না গেলেও শিলংয়ে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে রাজীব কুমারকে৷ এরপরই ফেব্রুয়ারি মাসে টানা পাঁচদিন চলে সেই জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব৷ এর পরেও তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা। উত্তরে আদালত প্রশ্ন তোলে, হেফাজতে নিয়ে কেন জেরা করতে চায় সিবিআই? এ ব্যাপারে আদালতে যথোপযুক্ত প্রমাণ দিতে হবে সিবিআইকে। সেই প্রমাণে আদালত সন্তুষ্ট হলে তবেই রাজীব কুমারের গ্রেফতারের নির্দেশ নিয়ে ভাববে আদালত।

চলতি মাসের শুরুর দিয়ে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজীব কুমারের আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং দাবি করেন, সিবিআই ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। ভুয়ো অর্থলগ্নি সংস্থার দুর্নীতির প্রেক্ষিতে গঠিত দলের প্রতিদিনের তদন্তের দায়িত্বে রাজীব ছিলেন না। তিনি কেবল তার সামগ্রিক কার্যকলাপ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তুলে ধরা হয় রাজীব কুমারের পেশাগত জীবনের দক্ষতাকেও৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ