নয়াদিল্লি: করোনা ভাইরাসের প্রকোপ এবং লকডাউনের ফলে মারাত্মক রকম প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে। তার জেরে শহরাঞ্চলে বেকারত্ব বেড়ে ৩০.৯ শতাংশ এবং সার্বিকভাবে বেকারত্ব বেড়ে ২৩.৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এমনই তথ্য দিচ্ছে সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি (সিএমআইই)-র সমীক্ষা রিপোর্ট। ৫ এপ্রিল শেষ হওয়া সপ্তাহের সাপ্তাহিক রিপোর্ট সোমবার সন্ধ্যায় প্রকাশ হয়েছে। যাতে সিএমআইই জানাচ্ছে, মার্চের মাঝামাঝি থেকে বর্তমান অবস্থায় ৮.৪ শতাংশ বেকারত্ব বৃদ্ধি পেতে দেখা গিয়েছে।

ভারতের প্রাক্তন মুখ্য সংখ্যাতত্ত্ববিদ প্রণব সেন মোটামুটি হিসেব করে মনে করেছেন লক ডাউনের দুটি সপ্তাহে প্রায় ৫০ মিলিয়ন লোক চাকরি হারিয়েছেন। তার মতে, এখন বেশ কিছু লোককে বাড়ি পাঠানো হয়েছে, প্রকৃত বেকারত্ব সম্ভবত আরও কিছুটা বেশি যেটা আরও কিছুদিন পরে বোঝা যাবে।

কর্মসংস্থানের বিষয়ে ভারতের কাছে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য নেই। অন্যদিকে আবার এই সিএমআইই-র কর্মসংস্থানের তথ্য বা‌ রিপোর্ট নিয়ে আগে রাজনৈতিক তরজার বিষয়বস্তু হতে দেখা গিয়েছে। আগে সরকারের পক্ষ থেকে এই সংস্থার সমীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন করতে দেখা গিয়েছিল। প্রণব সেন অবশ্য জানিয়েছেন, সেটা বড় কথা নয় বরং যে পরিবর্তন টা হচ্ছে সেটা দেখার আগ্রহ রয়েছে তার।

জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিমাংশুর অভিমত, এমনটা আশা করাই যাচ্ছে। লকডাউন শেষ হলে অবস্থাটা কেমন দাঁড়াবে সেটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জানিয়েছেন। তার সন্দেহ তখন বেকারের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। দ্রুতগতিতে এভাবে কর্মসংস্থান হারালে তার প্রভাব অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রেও পড়বে। গত ১৫ দিনে ১০ মিলিয়ন ইউএস কর্মী ‌ বেকার বলে নিজেদের দাবি করেছেন।

সিএমিআইই-র কর্মসংস্থানের সমীক্ষা সেই প্যানেলের ভিত্তিতে যেখানে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে একদল নমুনা লোকের ওপর নির্দিষ্ট সময় কালেএকটা সময় অন্তর অন্তর। সর্বশেষ সাপ্তাহিক সমীক্ষা ৯০০০ জনের উপর পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। যেহেতু দুটি সপ্তাহে মোটামুটি একই স্তরে বেকারত্ব (২৩ শতাংশ) রয়েছে। ফলে এই সংখ্যা ‌ নির্ভরযোগ্য বলে দাবি করেছেন সিএমআইই-র‌ ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং চিফ এক্সিকিউটিভ মহেশ ব্যাস।