কলকাতা : দেশের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অবহেলা ও পরিকল্পনার অভাবকে দায়ী করল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূল নেতা পূর্নেন্দু বসু ও রাজ্যসভার সাংসদ ও তৃনমূল মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়ান এই অভিযোগ করেন। পাশাপাশি রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানবিক বলে বর্ণনা করেন পুর্ণেন্দুবাবু।

পূর্ণেন্দু বসু এদিন বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী প্রতিটি মুহূর্তের রাজ্যের করোনা পরিস্থিতির খবর রাখছেন। সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলছেন, খোঁজ নিচ্ছেন। সোমবার সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যবাসীর স্বার্থে করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে ট্যুইট করেন। ভ্যাকসিন কেন্দ্রের কাছে চেয়ে না পাওয়ার কথাও মুখ্যমন্ত্রী ট্যুইটে লিখেছেন। বাকি তিন দফার নির্বাচন মুখ্যমন্ত্রী এক দফায় করার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কমিশন অজ্ঞাত কারণে নির্বাচনের সুচির কোনও বদল করেনি।”

পূর্নরেন্দুবাবু আরও বলরন, “সোমবার মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তাই নিয়ে দুপুর আড়াইটায় সাংবাদিক বৈঠক হবে। মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। রাজ্য সরকার নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত করোনা নিয়ন্ত্রণে ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে। কেন্দ্র সেখানে মাত্র ২৮৯ কোটি টাকা রাজ্যকে দিয়েছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে একটি লজ্জাজনক ঘটনা। কিন্তু টিকাকরণের পর যে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রের তরফে তাতে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিল। আমরা প্রতিবাদ করার ফলে তা বাতিল হয়েছে। হাসপাতালে বেড বাড়ানোর জন্য ৪ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের স্বার্থে সভা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুধু উত্তর কলকাতায় ২৬ এপ্রিল একটি সভা তিনি স্বল্প সময়ের জন্য করবেন। বাকি জেলার সভায় ৩০ মিনিট সময় দেবেন।”
এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করোনা নিয়ন্ত্রণে কী করেছেন তা উল্লেখ করে পূর্ণেন্দু বসু বলেন, “প্রধানমন্ত্রী গত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে গুজরাটে নমস্তে ট্রাম্প অনুষ্ঠান করেন। তখন আমেরিকায় তখন করোনা চলছে। ১৯ মার্চ, ২০২০তে ৫টার সময় ৫মিনিট হাততালি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।এতে করোনা কমে না সেটা তিনি বুঝলেন না। ২৩ মার্চ, ২০২০ মধ্যপ্রদেশ সরকার গঠনের জন্য সংসদ খোলা রেখেছিলেন। ৩ এপ্রিল ২০২০ তে রাত ৯টার সময় মোমবাতি ও প্রদীপ জ্বালানোর নির্দেশ দেন। এর পরেও দেশের এই ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে ডেইলি প্যাসেঞ্জারের মতো এসে সভা করছেন। আমরা মনে করি ওরা মাস্ক ব্যবহার করছেন না, করোনা ছড়াচ্ছেন।”

এর পর রাজ্যের তরফে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা বলেন পুর্ণেন্দুবাবু তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে একত্রে ৪৫% শয্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টাস্ক ফোর্সের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পর রাজ্যে ৭ হাজার শয্যা বেড়েছে। তাই মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ্বাস করেন নির্বাচনের থেকে মানুষের জীবন বাঁচানো জরুরি। রাজ্যের মানুষ মুখ্যনমন্ত্রীর এই ভূমিকা বুঝবেন। একটি সরকারি নির্দেশিকায় রাজ্যের বিভাগীয় সচিব সঞ্জয় বানসালকে প্রধান করে একটি টাস্কফোর্স করা হয়েছে। মানুষকে আতঙ্কমুক্ত করতে ও করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।”

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “কেউ বলেছেন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করতে কেউ বলেছেন সাংবাদিক বৈঠক ভার্চুয়ালি করতে। এই বিষয়ে আমরা সাংবাদিকদের কাছে পরামর্শ নেবো।” এর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডেরেক ওব্রায়েন বলেন,
‘রাজ্যপাল ট্যুইট করে জানতে চেয়েছেন রাজ্য সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নিয়েছে? আমরা বলছি , রাজ্যপাল ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এটাই আমরা চাই।” এরপর তিনি বলেন, “আমাদের নেত্রী ও অন্যরা যেখানে সভা করছেন তাঁরা সভা থেকে মাস্ক পরতে বলছেন। রাজ্য সরকার অন্য রাজ্যের তুলনায় ভালো ভাবে করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে। এই নিয়ে দিলীপ ঘোষের কথা শোনার প্রয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতিতে যদি মানুষের প্রাণ বাঁচানো প্রধান বলে মনে করেন তাহলে যে কোনও ভাবে তাঁরা ওষুধের ও ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করবেন। আমরা অনেক আগে লিখেও কোনও উত্তর পাইনি। যা উত্তর দিয়েছেন তার কোনও মানে হয় না।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.