স্টাফ রিপোর্টার, দিঘা: বুধবার মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে দিঘার সমুদ্রে পূণ্যস্নানে মাতলেন পর্যটকেরা। গঙ্গাসাগর না হোক, দিঘাতেই দুধের সাধ ঘোলে মেটালেন অনেকেই। পৌষমাসের শেষদিন হিসেবে পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তির বিশেষ তাৎপর্য এবং ঐতিহ্য রয়েছে। ধর্মীয় গুরুত্ব হিসেবে এই দিনটিতে পুণ্যলাভে অনেকেই গঙ্গাসাগরে ডুব দিতে যান। সংক্রান্তি হিসেবে এর জনপ্রিয়তা সব থেকে বেশি পশ্চিম ভারতে। তবে পিঠেপুলির উৎসব উপলক্ষ্যে এই রাজ্যেও মকর সংক্রান্তি বা পৌষ সংক্রান্তির জনপ্রিয়তা কোনও অংশে কম নয়।

ফলে পিঠে পায়েস খাওয়ার পাশাপাশি, পূণ্য অর্জনের আশায় গঙ্গায় স্নান করতে যান অনেকেই। ভোর রাত থেকেই সাগরে ডুব দেওয়ার ধুম লেগে যায় পুণ্যার্থীদের মধ্যে। শীতের কনকনে ঠাণ্ডায় গঙ্গায় একডুব দিতে পারলেই মোক্ষলাভ। কিন্তু মোক্ষ লাভের সেই সাধ থাকলেও বহুদুর গঙ্গাসাগর যাওয়ার সাধ্য হয়ে ওঠে না অনেকেরই। ফলে কাছেপিঠে সাগরে ডুব দিতে দিঘার সৈকতকেই বেছে নিয়েছেন অনেক মানুষ।

ফলে এদিন ভোররাত থেকেই সমুদ্রে ডুব দিতে পর্যটকদের কোলাহলে সরগরম সৈকত চত্বর। শহর কলকাতার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজির হয়েছেন পর্যটকেরা। শুধু তাই নয়, যারা আগে থেকেই দিঘায় ঘুরতে এসেছিলেন সুযোগ বুঝে এদিন তাঁরাও যোগ দিয়েছেন পুণ্যস্নানে।

মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে দিঘায় বেড়াতে আসা এক পর্যটকের কথায়, ইচ্ছা থাকলেও গঙ্গাসাগর অনেক দূর হওয়ায় যাওয়া হয়ে ওঠে না। ফলে দিঘা বেড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুণ্যস্নানটা এবার এখানেই সেরে নিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, বিশেষ এই দিন উপলক্ষ্যে ওল্ড এবং নিউদিঘা মিলিয়ে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। সমুদ্র চত্বরে উৎসাহি পর্যটকদের ভিড় সামাল দিতে প্রস্তুত রয়েছে জেলার পুলিশ-প্রশাসন। অতিরিক্ত ভিড়ে কোনও রকম বাজে পরিস্থিতির সৃষ্টি যাতে না হয়, সেইজন্য দিঘার বিভিন্ন ঘাটগুলিতে নজরদারি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কয়েকগুণ। দুর্ঘটনা রুখতে পুলিশের তরফে মাইকিং করে প্রচার চালানো হচ্ছে। এছাড়াও ঘাট গুলিতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশ ও নুলিয়াদের সংখ্যা। এদিকে দীঘার পাশাপাশি তাজপুর ও মন্দারমনিতেও স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি পর্যটকেরাও পূণ্যস্নানে মেতে উঠেছেন।

শুধু তাই নয়, মকরসংক্রান্তির পুণ্য তিথিতে নন্দকুমার থানার উত্তর নরঘাটে, গঙ্গামেলার উদ্বোধন করলেন রাজ্যের পরিবহন, জলসম্পদ ও সেচ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নন্দকুমারের বিধায়ক সুকুমার দে, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সিরাজ খান সহ প্রশাসনের অন্যান্য বিশিষ্ট আধিকারিকরা। এদিন সেচ দফতরের তরফে একটি চিল্ড্রেন পার্কেরও উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও রাধাকৃষ্ণ মন্দিরকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে ৮০ লক্ষ টাকা দিয়ে খুব শীঘ্রই নদীপাড় বাঁধানো হবে। মেলা শেষ হলেই সেই কাজ শুরু করে দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।