দেবযানী সরকার, কলকাতা: কংগ্রেস রয়েছে কংগ্রেসেই৷ দলের শীর্ষ নেতা কি পদে রয়েছেন, তা জানেনই না প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্বরা৷ কারও অভিযোগ নয়, সদ্য সমাপ্ত পঞ্চায়েত নির্বাচন পরবর্তী দলের সাংগঠনি পর্যালোচনা নিয়ে বিধানভবনে সোমবার থেকে শুরু হওয়া বৈঠকের ব্যানার থেকেই তা স্পষ্ট৷

বিধানভবনের সামনে ব্যানারে জ্বলজ্বল করছে গৌরব গগৈ-র নাম৷ আদতে তিনি সদ্য এআইসিসি-র ইনচার্জ পদে উন্নিত হয়েছেন ৷ কিন্তু পোস্টারে তাঁর নামের পাশে এআইসিসি-র ইনচার্জের পাশাপাশি লেখা হয়েছে এআইসিসি-র জেনারেল সেক্রেটারি৷ স্বভাবতই, প্রশ্ন উঠছে- দলের নেতা কি পদে রয়েছেন, সেটাই যদি না জানেন তাহলে প্রদেশ নেতৃত্ব দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন কিভাবে৷

কংগ্রেস সূত্রের খবর, সি পি যোশী সহ বেশ কয়েকজন জেনারেল সেক্রেটারির পদে রয়েছেন৷ কিন্তু প্রদেশ নেতৃত্বর কাছে তা যে স্পষ্ট নয় এঘটনা থেকেই তা প্রমাণিত৷ প্রদেশ কংগ্রেসের অন্যতম সদস্য শুভঙ্কর সরকারের অকোপট স্বীকারোক্তি, ‘‘এরকম ভুলভ্রান্তি আমাদের দলে মাঝে মধ্যে হয়েই থাকে৷ এনিয়ে এত ভাবার কোনও কারণ নেই৷’’ প্রদেশ নেতৃত্বের এক নেতার কথায়, ‘‘কর্মীদের কেউ কেউ হয়তো অতি উৎসাহিত হয়ে লিখে ফেলেছেন৷ তবে ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় তা দেখব৷’’

সোমবারই কলকাতার মাটিতে পা রেখে পঞ্চায়েতে ভরাডুবি নিয়ে দলীয় নেতৃত্বর সঙ্গে বৈঠক করেন গৌরব৷ সেখানে আব্দুল মান্নান ছাড়া প্রদেশ কংগ্রেসের সিংহভাগ নেতৃত্ব হাজির ছিলেন৷ সূত্রের খবর, সেখানে পঞ্চায়েতে দলের শোচনীয় পরাজয় কিংবা সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে রীতিমতো চুলচেরা বিশ্লষণ হয়৷ দু’পক্ষ রীতিমতো আড়াআড়়ি ভাবে বিভক্ত হয়ে বিতর্কে জড়ান৷ এমনকি প্রদেশ সভাপতির রদবদল নিয়েও তীব্র বিতর্ক হয়৷

ওয়াকিবহাল মহল মনে করিয়ে দিচ্ছে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অশান্তি, মনোমালিন্য অব্যহত থাকলে প্রতিবেশীরা তার সুযোগ নেবেই৷ শতায়ু কংগ্রেসের হালটা তেমনই৷