স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তিনজন মানুষের মৃত্যুকে পুরুলিয়া নির্বাচনের সব থেকে বড় ইস্যু বানিয়েছে বিজেপি৷ গেরুয়া শিবিরের ঘরণা, পুরুলিয়ার মানুষ ভোট দেওয়ার আগে ওই তিন মানুষের আত্মত্যাগ ভুলবেন না৷ জঙ্গলমহলের ওই তিন মানুষের মৃত্যুই শাসকের আসল চেহারা বুঝিয়ে দিয়েছে৷ মানুষ নিজের মতামত প্রকাশ করার আগে মনে রাখবে৷

কিছুদিন আগেই পুরুলিয়ার জেলার বাঘমুণ্ডি বিধানসভার সোনাবনা গ্রামে ঝুলন্ত বিজেপি কর্মীর দেহ পাওয়া গিয়েছিল৷ বাঘমুণ্ডির শিশুপাল সহিসের (২২) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে বিজেপি শাসক তৃণমূলের চক্রান্ত খুঁজে পেয়েছিল৷ ওই ঘটনা মনে করিয়ে দিয়েছিল, ওই জেলারই বলরামপুরের ত্রিলোচন মাহাত এবং দুলাল কুমারের স্মৃতি৷

রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঠিক আগেই পুরুলিয়ার বলরামপুরে বিজেপির দলিত নেতা পানো মাহাতোর ছেলে ত্রিলোচন মাহাতোর ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায়৷ ত্রিলোচনার গায়ে পোস্টার সেঁটে দেওয়া হয় – বিজেপি রাজনীতি করার জন্যই তার মৃত্যু হয়েছে – লেখা ছিল পোস্টারে৷ অন্যদিকে বলরামপুরের দুলাল কুমারের দেহ হাইটেনশন পোলে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়৷ ওই দুটি ঘটনা নিয়ে তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি৷ বিজেপির অভিযোগের তীর ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে৷

পঞ্চায়েত নির্বাচনে বোর্ড গঠনের সময় রঘুনাথপুরের জয়পুরের ঘগড়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় নারায়ণ ডোম এক বিজেপি কর্মীর৷ সেই সময় বিজেপির দাবি, পুলিশের পোশাকে তৃণমূল কর্মীরা নারায়ণ ডোমকে খুন করে৷

রাজ্য বিজেপির বক্তব্য, পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক দলের সন্ত্রাসের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুরুলিয়াতে ভালো ফল করেছে বিজেপি৷ অন্যদিকে পুরুলিয়াতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের ব্যাপক বদল ঘটেছে৷ এই জেলার মানুষ বিজেপির সঙ্গেই রয়েছে৷ বিজেপি প্রার্থী জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো স্থানীয় মানুষ৷ তাকে স্থানীয় জনতা পছন্দ করেছে৷ অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী মৃগাঙ্ক মাহাত৷ কংগ্রেসের প্রার্থী নেপাল মাহাত৷

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই নির্বাচনে বামফ্রন্ট জনতার ভোট যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ৷ ওই বামজনতা একটি বড় অংশ নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকাতে বিজেপির দিকেই ঢলে রয়েছে বলে মনে করছে অনেক বিশেষজ্ঞ৷ সেই কারণেই রাজ্যে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে৷ অন্য মতটি হল, বামফ্রন্টের মোদীবিরোধী অবস্থান থেকে তাদের একটি বড় অংশের ভোট মমতার দিকেই যাবে৷

অন্যদিকে জঙ্গলমহলে নিজেদের যথেষ্ঠ শক্তিশালী করেছে বিজেপি৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, পাশের বিজেপি শাসিত ঝাড়খণ্ডে থেকে বহিরাগতরা এসে পুরুলিয়ার শান্তি নষ্ট করেছে৷ বিন্তু বিজেপি সূত্রে যা খবর, সঙ্ঘ পরিবার জঙ্গলমহলে শেষ ৫-৬ বছর কাজ করেছে৷ যার পেয়েছে বিজেপি৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে তাকিয়ে জঙ্গলমহল হাসেনি৷ বরং বিজেপির দিকে তাকিয়েই হেসেছে৷