স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: পূর্ব নির্দ্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার হাওড়া জেলা আদালতে গোপন জবানবন্দী নেওয়া হল ‘প্রতিবাদী’ ইসরত জাহানের দুই সন্তান মহ: জাহিদ (৭) ও সাহিস্তা খাতুনের৷ আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন জবানবন্দীর রির্পোট পাঠানো হবে লিলুয়ার চাইল্ড ওয়েল ফেয়ার কমিটির কাছে। ওই জবানবন্দির রিপোর্টের ভিত্তিতেই লিলুয়ার কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে শিশু দুটি কার কাছে থাকবে৷

ইসরতের আইনজীবী শুভ্রজিৎ সাহা বলেন, ‘‘শিশু দুটিকে অপহরণের ঘটনায় তাদের বাবা, জেঠু সহ অভিযুক্তরা যোগ্য শাস্তি পাবেন বলে আমরা আশাবাদী৷’’ তিন তালাকের বিরুদ্ধে লড়াই করে সংবাদের শিরোণামে এসেছিলেন ইসরৎ৷ কয়েকদিন আগে দেশের সর্বোচ্চ আদালতও তিন তালাককে বাতিল ঘোষণা করেছে৷ অভিযোগ, ইসরতকে শায়েস্তা করতে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর দুই সন্তান জাহিদা ও সাহিস্তাকে ‘অপহরণ’ করে তাঁর স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন৷ ঘটনায় পুলিশের দ্বারস্থ হন তিন তালাকের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা মহিলা৷

অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে৷ রাতেই হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার পুলিশ দুই শিশুকে উদ্ধার করে ইসরতের হাতে তুলে দেয়। তবে ওই ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি৷ বিচারকের নির্দেশেই এদিন ওই দুই শিশুকে আদালতে নিয়ে যায় পুলিশ৷

বৃহস্পতিবার বিকেলে ইসরত জাহান তাঁর আইনজীবী নাজিয়া এলিয়া খানকে সঙ্গে নিয়ে গোলাবাড়ি থানায় যান। স্বামী মোর্তাজা আনসারি, বড় ভাসুর মুস্তাফা আনসারি ও বড় জা জামিনা খাতুনের বিরুদ্ধে তাঁর সন্তানদের ‘অপহরণ’ করার অভিযোগ আনেন৷ এরপরই গোলাবাড়ি থানার ওসি তথাগত পান্ডে যোগাযোগ করেন ইসরতের বড় ভাসুরের সঙ্গে। তিনি পুলিশকে জানিয়ে দেন, ঈদের জন্য ভাই মোর্তাজা ছেলেমেয়েকে ঘুরতে নিয়ে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ি ফিরে আসবে। এরপর মোর্তাজাকেও ফোন করে পুলিশ। সেও একই কথা জানায়। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই বাচ্চা দুটিকে লিলুয়া সংলগ্ন একটি জায়গা থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ৷ ডেকে আনা হয় ইসরতের বড় ভাসুর মুস্তাফাকেও।

এদিন ইসরতের দুই সন্তানের জবানবন্দী সংগ্রহ করেছে আদালত৷ সূত্রের খবর, বিচারকের কাছে দুই শিশু জানিয়েছেন, তাঁরা সকলকে নিয়েই এক সঙ্গে থাকতে চান৷ বিচারকের রিপোর্ট পাওয়ার পর গঠিত কমিশন কি সিদ্ধান্ত নেন, আপাতত তার ওপরই নির্ভর করবে শিশুদুটি কার কাছে থাকবেন৷