নয়াদিল্লি: ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই ফের সিবিআই প্রধানের পদ থেকে সরতে হয়েছে তাঁকে৷ এর পিছনে রয়েছে কতকগুলি মিথ্যে অভিযোগ৷ তাঁকে সরানো মধ্যে দিয়ে সংস্থার স্বাধীকার নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল বলে দাবি অলোক ভার্মার৷

ফইল ছবি

বৃহস্পতিবার আচমকাই সরিয়ে দেওয়া হয় সিবিআই প্রধান অলোক ভার্মাকে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন একটি কমিটির বৈঠকে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে পদ ফিরে পেয়েও শেষপর্যন্ত তা খোয়াতে হয় অলোক ভার্মাকে।

আরও পড়ুন: চলতি সপ্তাহে ফের বাড়ল জ্বালানির দাম

তারপরই সংবাদ সংস্থার কাছে অভিযোগ করেন অলোক ভার্মা৷ সিবিআইয়ের প্রাক্তন ডিরেক্টর জানান, দেশের বড়বড় দুর্নীতির তদন্ত করে থাকে সিবিআই৷ ফলে এই সংস্থার স্বাধীনতা থাকা উচিত। আমি সংস্থার সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা বজায় রাখতে চেয়েছিলাম৷ সেটাই বজায় রাখতে চেয়েছিলাম। অভিযোগকারীর একার মিথ্যে বয়ানেই বয়ানেই আমাকে সরিয়ে দেওয়া হল৷

প্রতীকী ছবি

গত ৮ই জানুয়ারি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ডিরেক্টর অলোক ভার্মাকে ছুটিতে পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট৷ তাঁর সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার আর এক শীর্ষ কর্তা রাকেশ আস্থানার বিতর্ক সামাল দিতে দুজনকেই ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার।

অন্তর্বর্তীকালীন অধিকর্তা হিসেবে নাগেশ্বর রাওকে নিয়োগ করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অলোক ভার্মা। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে অলোক ভার্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সিভিসি-কে।

আরও পড়ুন: পান্ডিয়া-লোকেশের বিকর্তিক মন্তব্য নিয়ে মুখ খুললেন কোহলি

গত মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, অলোক ভার্মাকে ফের সিবিআই-এর অধিকর্তার পদে ফিরিয়ে আনতে হবে। তবে আপাতত তিনি কোনও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। কবে থেকে তাঁর উপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা উঠবে, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তিন সদস্যের সিলেক্ট কমিটি। দ্রুত এই কমিটিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ারও পরামর্শ দেয় সুপ্রিম কোর্ট৷

সিবিআই ইস্যুতে আদালতে মুখ পোড়ার পর আর দেরি করেনি কেন্দ্র৷ বৃহস্পতিবারই বৈঠক ডাকা হয় সিলেক্ট কমিটির৷ সেখানে ভোটাভুটিতে প্রধানমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধি অলোদ ভার্মার বিপক্ষে ভোট দেন৷ বিরোধী দলনেতা খাড়গে একাই অলোক ভার্মাকে সিবিআই ডিরেক্টর পদে থাকার পক্ষে ভোট দেন৷ ফলে ভোটাভুটিতে হেরে যান ভার্মা৷ আদালতের নির্দেশে পদ ফিরে পেয়েও হারতে হয় তাঁকে৷ এরপরই মিথ্যা অভিযোগের কথা বলেন তিনি৷

আরও পড়ুন: নাগরিকত্ব সংশোধনী: আইপিএফটি সদস্যদের ঘেরাও রক্ষিবাহিনীর, তুমুল উত্তেজনা

সরব বিরোধীরাও৷ সিবিআই ডিরেক্টর পদ ইস্যুতে মোদী সরকারকে আক্রমণ করে কংগ্রেস বলে তদন্তে ভয় পেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ ফলে নিরপেক্ষ লোককে সিবিআইয়ের প্রধান হিসাবে দেখতে রাজি নয় তারা৷ লোকসভা ভোটের আগে আপাতত এই প্রসঙ্গে চড়ছে দিল্লির রাজনীতির পারদ৷