আইএসএলে প্রথমবার পেশাদার ফুটবলের মোড়কে কলকাতা ডার্বি৷ মুখোমুখি এসসি ইস্টবেঙ্গল বনাম এটিকে-মোহনবাগান। ম্যাচের আগাম বিশ্লেষণে কলকাতা ২৪x৭-এ কলম ধরলেন আইএসএলের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার মেহতাব হোসেন

প্রথমেই বলি অচেনা প্রতিপক্ষ সবসময় ভয়ংকর। আর এই বিষয়টা মাথায় রেখেই ডার্বিতে মাঠে নামতে হবে এটিকে-মোহনবাগানকে। কারণ এসসি ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা ফিটনেসের কোন পর্যায়ে রয়েছে, কোন ফর্মেশনে তারা খেলছে কিছুই জানা নেই এটিকে-মোহনবাগানের কাছে। স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়গুলো ভাবাবে আন্তোনিও লোপেজ হাবাসকে। তবে একটা বিষয় বিশ্ব ফুটবলে এমন অনেক স্বনামধন্য কোচ রয়েছেন তারা পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাক না কেন নিজের সিস্টেমে অটুট থাকে। উদাহরণ হিসেবে আমি পেপ গুয়ার্দিওলার কথাই বলতে পারি।

আন্তোনিও লোপেজ হাবাসও ঠিক তেমনই একজন। আমার মনে হয় যাই হয়ে যাক এটিকে-মোহনবাগান কোচ তাঁর সিস্টেম ছেড়ে বেরোবেন না। এবার এসসি ইস্টবেঙ্গল কোন সিস্টেমে খেলে সেটাই ভাবনার বিষয়। এছাড়া এটিকে-মোহনবাগানের কাছে একটা কোর টিম রয়েছে যা বরাবরই অ্যাডভেন্টেজের বিষয়। একইসঙ্গে গতবছর আমরা যেমনটা দেখেছিলাম ডিফেন্স সামলে কাউন্টার-অ্যাটাক নির্ভর ফুটবল সেটাই প্রথম ম্যাচেও দেখেছি। আশা করি ডার্বিতেও একই ধারা বজায় থাকবে। আর ইস্টবেঙ্গল কোচ রবি ফাওলার সব দেখেশুনে জল মেপে নিয়েছেন। এবার কীভাবে হাবাসের রক্ষণ তিনি ভাঙবেন, সেটা সম্পূর্ণ ফাওলারের হাতেই।

তবে ম্যাঘোমা, পিলকিংটনদের কথা যা শুনেছি বা যেটুকু দেখেছি একটু হলেও এটিকে-মোহনবাগানকে ভাবাবে। কারণ এটিকে-মোহনবাগানের রক্ষণ এখনও কিন্তু সেভাবে পরীক্ষিত নয়। কেরালা অ্যাটাকিং থার্ডে এসে গত ম্যাচে বিশেষ কিছুই করতে পারেনি। তবুও দু-একটা সুযোগ চলে এসেছিল তাদের কাছে। তুলনায় এটিকে-মোহনবাগান সেই অর্থে কোনও সুযোগ পায়নি। একটি পেয়েছে আর তাতেই গোল করে গিয়েছে। সবমিলিয়ে ওই যে বললাম অচেনা প্রতিপক্ষ হিসেবে এসসি ইস্টবেঙ্গল বেশ বেগ দিতে পারে এটিকে-মোহনবাগানকে।

তাই আমার মনে হয় ৩-৫-২ চেনা ছকেই যাবেন হাবাস। প্রবীর এবং শুভাশিস দুই উইং-হাফকে আক্রমণে যেতে হয়তো নিষেধ করবেন। দেখে নিয়ে তারপর সুযোগ বুঝে আক্রমণে যাবেন স্প্যানিশ কোচ। তবে একটা বিষয় রবি ফাওলারের কাছে হারানোর কিছু নেই। আমরা সবাই জানি তাঁর হাতে নতুন টিম, প্রস্তুতির জন্য খুব কম সময় পেয়েছে। এমন অবস্থা থেকে যদি উনি জিততে পারেন তবে পরবর্তী ম্যাচ থেকে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলবে তাঁর দল। একইরকমভাবে হাবাস জিতলে অনেকটা অ্যাডভান্টেজ জায়গায় চলে যাবেন।

তবে একটা ব্যাপার বহুদিন পর ডার্বিতে দু’দলেই বেশ কিছু বঙ্গসন্তান থাকছেন, যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। কারণ তাদের মধ্যে তাগিদটা অনেক বেশি। যদিও এবার গোয়াতে ক্লোজ-ডোর ম্যাচ হচ্ছে, তবু ডার্বি বাঙালি ফুটবলারদের কাছে বাড়তি উদ্দীপনার। স্টেডিয়ামে দর্শকের উপস্থিতি এবং গনগনে আঁচ তারা অবশ্যই মিস করবে। আর কলকাতা ডার্বির পরিধি তো শুধু কলকাতাতে সীমাবদ্ধ নেই, এশিয়ার বৃহত্তম ডার্বি এটা। যদিও বিশ্ব ফুটবল ধীরে-ধীরে এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে। আশা করি আমাদের ফুটবলাররাও মানিয়ে নেবে।

সবশেষে এটুকুই বলতে পারি আমার চোখে আইএসএলের প্রথম ডার্বিতে কেউই এগিয়ে থেকে শুরু করবে না। কিন্তু হ্যাঁ, যে দল হাফচান্সকে কাজে লাগাতে পারবে তারাই ম্যাচ বের করে নিয়ে চলে যাবে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।