স্টাফ রিপোর্টার, রায়গঞ্জ: এক শিক্ষককে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিল শ্বশুরবাড়ির সদস্য সহ স্থানীয় বাসিন্দারা৷ পেশায় তিনি শিক্ষক৷ কিন্তু শিক্ষক হলেও শিক্ষিতর পরিচয় তিনি হারিয়েছেন অনেক দিন আগেই৷ এই দাবি গোটা এলাকাবাসীর৷ ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দর এলাকায়৷ অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম প্রসেনজিৎ সাহা৷

উল্লেখ্য, বছর সাতেক আগে রায়গঞ্জ শহরের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ সাহার সঙ্গে একই পাড়ার বাসিন্দা নবনিতা সাহার বিবাহ হয়৷ প্রথম চার বছর সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও সমস্যা শুরু হয় চার বছর পর থেকে৷

আরও পড়ুন: ভাগাড় কাণ্ডের পর এবার পচা মুরগীর মাংসের হদিশ

নবনিতাদেবীর অভিযোগ, বিয়ের চার বছর পর থেকে নানা ভাবে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করতে থাকে অভিযুক্ত প্রসেনজিতবাবু৷ বারবার এই অত্যাচার চলতে থাকলে নবনিতাদেবী তাঁর বাপের বাড়িতে গোটা বিষয়টি জানাতে বাধ্য হয়৷

পরে এই অত্যাচারের ঘটনায় রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নবনিতাদেবীর বাপের বাড়ির লোকজন৷ জানা গিয়েছে, কোর্ট পর্যন্তও গড়ায় এই ঘটনা৷ বিবাদ বিচ্ছেদ পর্যায়ে চলে আসে তাঁদের জীবন। তবে এই ঘটনার পর থেকেই নবনিতাদেবী তাঁর বাপের বাড়িতে থাকতে শুরু করে। এদিকে সোমবার দুপুরে প্রসেনজিৎ তার স্ত্রী নবনিতার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার নাম করে নবনিতার বাড়িতে প্রবেশ করে৷ নবনিতার বাপের বাড়ির লোকও ভেবেছিল সব মিটমাট করতেই এই উদ্যোগ৷ কিন্তু প্রসেনজিতবাবুর চলে যাওয়ার পর নবনিতার থেকে তাঁরা অন্য কতা জানতে পারে৷

আরও পড়ুন: মাটি মাফিয়ার উপদ্রবে নাজেহাল গ্রামবাসী

নবনিতা জানায় দেখা করার নাম করে নবনিতাকে মারধোর করে চলে যায় প্রসেনজিৎ৷ এদিন সন্ধ্যায় নবনিতার বোন ও পাড়ার কিছু মহিলা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। সেই সময় ওই শিক্ষক নবনিতার বোনকে দেখা গালাগালি করতে থাকে। ক্রমাগত অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকলে পাড়ার মহিলারা তাকে বেধড়ক মারধর করে। খবর দেওয়া হয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশকে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। কিন্তু পুলিশ আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে পরে তারা। ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় পরে রায়গঞ্জ থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নবনিতাদেবীর পরিবার। তাদের দাবি, অবিলম্বে যেন অভিযুক্তের যথাযোগ্য শাস্তি দেওয়া হয়৷ অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।

আরও পড়ুন: বাড়িতে বসে ডিও তৈরি করুন