সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: এ এক অন্য আত্মঘাতী হামলার কাহিনী। এখন আত্মঘাতী হামলা কথাটি জঙ্গি হানার সঙ্গে বেশী ব্যবহৃত হয়। কিন্তু নিজের জীবন দিয়ে পাকিস্তানের উপর একপ্রকার ‘আত্মঘাতী’ হামলা চালান এক ভারতীয় সেনা হাবিলদার।একাই পাকিস্তানের আটটি প্যাটন ট্যাঙ্কার উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি পরমবীর শহীদ আব্দুল হামিদ।

১৯৬৫ সালের ভারত পাক যুদ্ধ। ঘটনা ১০ সেপ্টেম্বরের। ভারতীয় পদাতিক বাহিনীর হাবিলদার আব্দুল হামিদ লক্ষ্য করেন কিছু পাকিস্তানি প্যাটন ট্যাঙ্ক ভারতীয় সীমার মধ্যে চলে আসছে। ভারতের বিপদ বুঝতে পেরে তিনি সুরক্ষিত অবস্থান থেকে অ্যান্টি ট্যাঙ্ক নিয়ে বেরিয়ে আসেন।

প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে পরপর তিনটি প্যাটন ধ্বংস করেন।এরপরে আরও পাঁচটি ট্যাঙ্কার ধ্বংস করে দেন একাই। সবমিলিয়ে আটটি প্যাটন ধ্বংস করেন। এর মাঝেই পাক গোলায় শহীদ হন আব্দুল হামিদ।

এই ঘটনার সূত্রপাত ১৯৬৫, ৮ই সেপ্টেম্বর। পাকিস্তানের ট্যাঙ্ক ও পদাতিক বাহিনী আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে। খেম করন সেক্টরে প্রবেশ করে গিয়েছিল। ভারতীয় সেনা অর্ধবৃত্তাকার বা ইংরেজি U আকৃতির প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নেয়। রাতে ভারতীয় সেনা পাক ট্যাঙ্কারের আখ ক্ষেতের রাস্তা দিয়ে প্রবেশের পথে বাধা দেয়। ব্যবহার করে আখ ক্ষেতের জমা জল। বাঁধ কেটে দেয়। পুরো রণক্ষেত্র জলে প্লাবিত হয়।

পাকিস্তানি ভারী ট্যাঙ্ক বিশেষ করে প্যাটন ট্যাঙ্ক অর্ধবৃত্তাকার অংশে আটকা পড়ে যায়। নরম কাদার কারণে পাকিস্তানি ট্যাঙ্কের যাত্রা থেমে যায়। আটকে পড়া পাকিস্তানি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করে দেয় ভারতীয় ট্যাংক বাহিনী। এরপরেও খেম করন সেক্টরের অন্য পথ দিয়ে ভারতীয় সীমার দিকে এগোতে শুরু করেছিল পাক ট্যাঙ্কার। আর সেখানেই একা লড়াই করে উড়িয়ে দেন ‘শত্রু’ পক্ষকে।

আব্দুল হামিদ ভারতীয় পদাতিক বাহিনী অ্যান্টি ট্যাঙ্ক কামান চালানোয় সেরা ছিলেন।অসীম বীরত্বের জন্য ভারত সরকার আব্দুল হামিদকে সর্বোচ্চ সামরিক পুরষ্কার ‘পরম বীর চক্র’ পদকে ভূষিত করেন। ১৯৬৫ সালের ভারত – পাক যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ট্যাঙ্ক যুদ্ধে। যার নাম ছিল ‘আসল উত্তর’ (asal uttar)।

সেপ্টেম্বরের ৮-১০ তারিখ এই যুদ্ধ চলে। ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের খেম করন সেক্টরে এই যুদ্ধ হয়েছিল। প্রাক্তন পাক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফ লেফটেনেন্ট হিসেব এই যুদ্ধ অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে পাকিস্তান ১৬৫ টি ট্যাঙ্ক হারায়। যার অর্ধেকের বেশি ট্যাঙ্ক ‘আসল উতর’-এর যুদ্ধে ধ্বংস হয়। যুদ্ধে শোচনীয় হার হয় পাকিস্তানের।