সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: নাগা সন্ন্যাসী বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একদল জটাজূটধারী গায়ে ভস্মমাখা এবং প্রায়শই সম্পূর্ণ নগ্ন পুরুষের দল। কুম্ভমেলায় এঁদের দেখা মেলে খুব সহজেই। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না যে, নাগা সন্ন্যাসী শুধু পুরুষরা নন, মহিলারাও হয়ে থাকেন। তবে ধ্যান করলেই নাগা সন্ন্যাসিনী হওয়া যায় না। ঈশ্বরের কাজে সম্পূর্ণ নিয়োজিত করতে পারলেই তবেই তিনি হতে পারেন নাগা।

সংসার জীবন থেকে অনেক দূরে, ঈশ্বর সাধনায় মগ্ন এবং শীত-গ্রীষ্ম সব ঋতুতেই শরীর থাকে উদোম- এমন হুলিয়া বলে দেয় যে এরা নাগা সন্ন্যাসী বা নাগা সাধু। উপমহাদেশে সনাতন ধর্মীয় বিভিন্ন তীর্থকেন্দ্রের আশপাশে বিশেষ করে কুম্ভ মেলায় প্রায়ই তাদের দেখা মেলে। চুলে জটাধারী, গায়ে ছাই মাখা এই সন্ন্যাসীরা লোকালয়ে কমই আসে। কেউ কেউ এদের যোদ্ধা সন্ন্যাসী বলেন। অনেকেই মনে করেন, তাদের কামবাসনা চরিতার্থ করার মাধ্যম অর্থাৎ লিঙ্গ যেহেতু অকেজো করে দেওয়া হয় সেহেতু তাদের শারীরিক শক্তি প্রবল হয়। তাই নাগা সন্ন্যাসীরা বেশ শক্তসমর্থ হয়ে থাকে। কিন্তু নাগা সন্ন্যাসী শুধু পুরুষরা নন, মহিলারাও হয়ে থাকেন।

নাগা সন্ন্যাসীনি হয়ে ওঠার আগে একজন মহিলাকে ৬ থেকে ১২ বছর ধরে ব্রহ্মচর্যের যাবতীয় নিয়ম মেনে চলতে হয়। তাতে যদি সফল হন, কেবল তখনই গুরুর নির্দেশে সন্ন্যাস ধর্মে দীক্ষিত হতে পারেন তিনি। গুরু একজন মহিলাকে নাগা সন্ন্যাসে দীক্ষা দেওয়ার পূর্বে তাঁর অতীত জীবন, পরিবার ও আত্মীয়-পরিজন সম্পর্কে ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে নেন। নাগা সন্ন্যাসিনী হয়ে ওঠবার আগে একজন মহিলাকে তাঁর নিজের পিণ্ডদান ও তর্পণ সেরে নিতে হয়। সন্ন্যাস গ্রহণের আগে মহিলাদের মাথা নেড়া করতে হয়, এবং গঙ্গা স্নান সারতে হয়। সন্ন্যাসী-বৃত্তে নাগা সন্ন্যাসিনীদের সন্ন্যাসীদের সমান মর্যাদা দেওয়া হয়।

পুণ্যস্নানে পুরুষ সন্ন্যাসীদের সমান সুযোগ পেয়ে থাকেন সন্ন্যাসিনীরা। সন্ন্যাসে দীক্ষিত হওয়ার আগে একজন মহিলাকে প্রমাণ করতে হয় যে, তিনি ঈশ্বরেই সম্পূর্ণতা সমর্পিত, এবং পার্থিব বাসনা-কামনায় তাঁর বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। পুরুষ সন্ন্যাসীদের সঙ্গে সন্ন্যাসিনীদের পার্থক্য রয়েছে কেবল একটি জায়গাতেই, তাঁরা সন্ন্যাসীদের মতো নগ্ন হয়ে থাকেন না। বরং তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়ম হল, হলুদ একটি কাপড় দিয়ে আবৃত রাখতে হবে শরীর।

এমনকি, পুণ্যস্নানের সময়ও নগ্ন হওয়ার অধিকার তাঁদের নেই। যেহেতু তাঁদের জীবন সম্পূর্ণতা ঈশ্বরে সমর্পিত সেহেতু তাঁদের দিন শুরু হয় ঈশ্বর আরাধনার মাধ্যমে, এবং দিন শেষও হয় ঈশ্বরচিন্তা দিয়ে। নাগা সন্ন্যাসিনীরা তাঁদের কপালে লাগান টিকা, এবং এক টুকরো সেলাইহীন কাপড় দিয়ে আবৃত রাখেন শরীর। ক’জন নাগা সন্ন্যাসিনীকে সন্ন্যাসী-বৃত্তে ‘মা’ বলে সম্বোধন করা হয়।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও