সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: শ্রীকৃষ্ণকে কেন্দ্র করেই হোলির সূত্রপাত, মহাকাব্য থেকে লোকগাথায় দোল শুরুর বহু কাহিনী রয়েছে। প্রত্যেকটি কাহিনীই এক একটি বড় চমক। অন্যতম দোল নিয়ে ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের কথিত কাহিনী। সে গল্প জুড়ে রয়েছে শুধুই দেহতাত্ত্বিকতার ব্যখ্যা এবং সেই দেহ তত্বে মেতে ওঠা রাধা – কৃষ্ণের লীলাখেলা।

আরও পড়ুন: রবীন্দ্রনাথ নয়, শান্তিনিকেতনে বসন্তে উৎসবের স্রষ্টা এই ছেলে

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে অনুযায়ী , একবার রাধা শ্রীকৃষ্ণের কাছে তাঁর সর্বস্ব দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। ফাল্গুনি পূর্ণিমার রাতে প্রেমিকার সাথে নিবিড় রতিক্রিয়ায় মত্ত হয়ে ওঠেন শ্রীকৃষ্ণ। সারারাত ধরে তিনি নানাবিধ কামকলার প্রয়োগে রাধিকার সারা শরীরে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রেমানুরাগের চিহ্ন। শ্রীকৃষ্ণের সাথে দীর্ঘ রতিক্রিয়া শেষে শ্রীরাধিকা যখন উঠে দাঁড়ান তখন তাঁর শরীর জুড়ে স্পষ্ট শ্রীকৃষ্ণের ‘ভালবাসার চিহ্ন’ বা ‘love byte’।

এমন অবস্থায় রাস্তা দিয়ে যাওয়া যাবে না। বাড়িতে কেউ দেখলে বিপদ বাড়বে বই কমবে না। রাধার লজ্জা ঢাকতে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধিকার সারা দেহ রঙে রঙে ভরিয়ে দিয়েছিলেন। একইসাথে সমগ্র ব্রজধামে রঙ খেলার ঘোষণা করে দিলেন তিনি। ব্রজবাসীর গাঢ় রঙের আড়ালে হারিয়ে গেল শ্রীরাধিকার দেহ জুড়ে শ্রীকৃষ্ণের ভালবাসার চিহ্ন। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে, এভাবেই নাকি শুরু হয় হোলি উৎসব।

দোল প্রবর্তনের আরেক তত্ত্ব আবার বলে অন্য কথা। একবার বৃন্দাবনের কুঞ্জবনে দেখা হয় রাধা কৃষ্ণের। কৃষ্ণের সাথে কথা বলতে বলতে রাধার খেয়াল হয়, তাঁর গায়ে ফুলের পাপড়ি ঝরে ঝরে পড়ছে। অথচ মাথার উপরে তো কোনও ফুলের গাছ নেই! তাহলে এমন অদ্ভুত কাণ্ড ঘটছে কি করে? শ্রীকৃষ্ণ তখন স্মিত হেসে রাধাকে জানান,দেবতারা নাকি স্বর্গে রঙের উৎসব পালন করছেন। সেকথা শুনে শ্রীরাধাও রঙ খেলতে শ্রীকৃষ্ণের কাছে আবদার জানালেন। রাধার আবদার মেটাতে ফাল্গুনি পূর্ণিমার দিনেই আয়োজন করা হল দোলের। সেখান থেকে মহাসমারোহে দোল পালিত হতে লাগল ব্রজের মাটিতে।

আরও কিছু গল্প রয়েছে। যেমন , বসন্ত পূর্ণিমার দিন রঙের ঝর্ণায় সবান্ধবে কৃষ্ণ রাঙিয়ে তোলেন রাধাসহ বাকি গোপিনীদের। কিন্তু কি আশ্চর্য! বিভিন্ন রঙের মিশেলে রাধার রূপের ঘনঘটা তো কমলই না। উল্টে তা যেন আরও শতগুণে খোলতাই হয়ে উঠল। রাধার সেই অপরূপ মনোগ্রাহী রূপ ফিরে ফিরে দেখার আশায় তারপর থেকে প্রতিবছর ব্রজভূমিতে রং খেলার উৎসবে মেতে উঠলেন ব্রজের দুলাল। প্রচলিত হল হোলি।

আবার আর-এক মতে, ‘অরিষ্টাসুর’ নামের এক অসুর বধের আনন্দেই নাকি শ্রীকৃষ্ণের সাথে মৃত দৈত্যের রক্ত নিয়ে উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছিলেন ব্রজধামের বাসিন্দারা। সেই রক্তরাঙ্গা রঙের উৎসব থেকেই প্রবর্তন হয় দোল বা হোলি মহোৎসবের। এও কথিত আছে, বসন্তের প্রথম পূর্ণিমায় ‘কেশি’ নামে এক অত্যাচারী অসুরকে বধ করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। বসন্ত পূর্ণিমায় আসুরিক শক্তির বিনাশের আনন্দে শ্রীকৃষ্ণ দানবের রক্ত ছিটিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন। সেই আনন্দে সামিল হন ব্রজবাসীও। তার হাত ধরেই সূচনা হয় হোলি উৎসবের।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV