সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি আর কবি জীবনানন্দ দাশ যেন একই পথের। যদিও একজন কবি , অন্যজন বিজ্ঞানী। কিন্তু মৃত্যু পথ যেন তাদেরকে মিলিয়ে দেয়। আনমনা বিজ্ঞানী পিয়ের কুরি আনমনা অবস্থান চলে যান মৃত্যুর কাছে। ফিরে আসা হয়নি।

১৯০৬ সালের ১৯ এপ্রিল। ঝড়ো হাওয়া বইছিল। সঙ্গে মুষলধারায় বৃষ্টি। প্যারিসের অধিকাংশ মানুষই গৃহবন্দি। এই দুর্যোগে বাড়ির বাইরে বেরোনোর তাগিদ কারও ছিল না। রাস্তাঘাট পরিষ্কার দেখা যাছিল না। বৃষ্টির ঝাট আটকাতে একটি ঢাউস ছাতা মাথায় দিয়ে মধ্যবয়সী বিজ্ঞানী পিয়ের কুরি ধীর গতিতে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এসেছিলেন ‘Association of the Professors’-এর সভায় যোগ দিতে। এর আগে সকালের দিকে নিজের গবেষণাগারে কিছুক্ষণ কাজ করেছিলেন। সভা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।

রাস্তা পেরোতে হবে। বৃষ্টি দাপটে সামনের কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। একটু অন্যমনস্কও ছিলেন। হয়তো তিনি কোনো গভীর চিন্তায় মগ্ন ছিলেন। শোনাযায়, অধিকাংশ সময়েই তিনি আনমনা হয়ে রাস্তায় চলাচল করতেন বা সাইকেল চালাতেন। মুহূর্তের এই অসাবধানতায় ঘটে গেল এক চরম বিপর্যয়। প্রায় ছ-হাজার কিলোগ্রাম ওজনের ওয়াগন টানা এক ঘোড়ার গাড়ির নীচে চাপা পড়ে প্রাণ হারালেন বিজ্ঞানের অন্যতম সাধক পিয়ের কুরি। শুধু পরিবারেই নয়, বিজ্ঞানী মহলে নেমে এসেছিল বিষাদের ছায়া। অনেকটা একই ঘটনা ঘটেছিল কবি জীবনানন্দ দাসের ক্ষেত্রেও। কখন যে চলন্ত ট্রামের সামনে চলে এসেছিলেন খেয়াল করেননি। মৃত্যু….

বিজ্ঞানের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত একবারই এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে দুটি আলাদা বিভাগে, পদার্থবিদ্যা এবং রসায়ন, একজন বিজ্ঞানী দুইবার নোবেল পুরস্কার দ্বারা সম্মানিত হয়েছেন। তিনি পিয়ের কুরি। ১৫ মে ১৮৫৯ সালে প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন পিয়ের কুরি। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি গণিতে ডিগ্রি লাভ করেন। এদিকে, প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর মেরি পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং গণিতে অধ্যয়ন করতে থাকেন । ১৯৮৩ সালে তাকে পদার্থবিদ্যায় ডিগ্রী প্রদান করা হয় এবং তিনি অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল লিপম্যানের শিল্পভিত্তিক গবেষণাগারে কাজ শুরু করেন।

মেরি প্যারিসে ‘দ্য সোসাইটি ফর দ্য এনকারেজমেন্ট অফ ন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রি’-এর সহায়তায় বিভিন্ন পদার্থের চৌম্বক ধর্ম পরীক্ষার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক গবেষণা শুরু করেন। এই সময় পিয়ের ESPCI এর স্কুল অফ ফিজিক্স অ্যান্ড কেমিস্ট্রির পরামর্শক ছিলেন। মেরির সাথে পিয়েরের পরিচয় হয় অধ্যাপক জোসেফ কোভালস্কি এর সুবাদে, যিনি বুঝেছিলেন যে, মেরি কাজের জন্য যেমন গবেষণাগার খুঁজছেন তার ব্যবস্থা পিয়ের করতে পারবেন। পিয়েরের কাছে কোন বড় গবেষণাগার ছিল না, কিন্তু তিনি মেরিকে কাজ শুরু করার মত জায়গা দিতে পেরেছিলেন।

১৮৯৫ সালে উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। তবে এগুলো কি কারণে সৃষ্টি হয় তা তখনো অজানা ছিল। ১৮৯৬ সালে হেনরি বেকারেল লক্ষ্য করেন যে, ইউরেনিয়াম লবণ একধরণের রশ্মি নিঃসরণ করে যাদের কোন কঠিন পদার্থ ভেদ করার ক্ষমতা এক্স-রশ্মির সমতুল্য। তিনি দেখান যে, এই রশ্মিগুলো বাইরের কোন শক্তির সাহায্য ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে নির্গত হয়।

এই দুইটি আবিষ্কার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মেরি কুরি ইউরেনিয়াম রশ্মির উপর গবেষণা শুরু করেন। ১৮৯৮ সালের ২১শে ডিসেম্বর কুরি দম্পতি পিচব্লেন্ড থেকে পোলোনিয়াম এবং রেডিয়াম নামক দুটি নতুন তেজস্ক্রিয় মৌলের সন্ধান পান। এর পাঁচ দিন পর ফরাসি বিজ্ঞান একাডেমীতে তাঁদের কাজ প্রকাশিত হয়। ১৯০২ সালের ২০ই এপ্রিল তাঁরা পিচব্লেন্ড থেকে রেডিয়ামকে তেজস্ক্রিয় লবণরূপে পৃথক করতে সক্ষম হন।

১৯০৩ সালে নোবেল কমিটি তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে কাজের জন্যে পিয়ের এবং বেকারেলকে নোবেল পুরষ্কারের জন্য মনোনীত করে। পিয়ের জানান, মেরিকে স্বীকৃতি না দিলে তিনি এ পুরস্কার গ্রহণ করবেন না। অবশেষে, তাঁর মতামতকেই স্বাগত জানায় কমিটি। ১৯০৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পদার্থবিদ্যায় অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত হন কুরি দম্পতি এবং বেকারেল। এর কয়েক বছর পরেই, ১৯০৬ সালে পিয়ের মারা যান।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.