স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কংগ্রেস নেতা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারের পর রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব যেভাবে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটাকে ভাল চোখে দেখছে না প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব৷ সন্ময়বাবুর বাড়িতে বিজেপির প্রতিনিধিদল যাওয়ার পর বিধানভবন থেকে যে প্রেস বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তাতে এটাই স্পষ্ট৷ কংগ্রেস নেতারা মনে করছেন, এই ইস্যুটিকে হাইজ্যাক করে নিজেদের পালে হাওয়া কাড়তে চাইছে বিজেপি৷

প্রদেশ কংগ্রেসের মিডিয়া সেলের প্রধান অমিতাভ চক্রবর্তী প্রেস বিবৃতিতে লিখেছেন, “আজ সন্ময় বন্দোপাধ্যায়ের বাড়িতে বি জে পির নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে আমাদের কোন ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই। যে কেউ কারও বাড়িতে যেতে পারে। কিন্তু যারা সারা দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করছে, তারা গণতন্ত্র বাঁচাবার সংগ্রাম করবে এটা হাস্যকর। আমরাই যথেষ্ট সন্ময়ের লড়াই লড়ার জন্য। গ্রেফতার হওয়ার আগে থেকেই কংগ্রেস প্রতিনিধিরা সন্ময়ের পরিবারের কাছে যাচ্ছেন।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গ্রেফতার হওয়ার খবর পেয়েই বিধায়ক নেপাল মাহাতোকে নির্দেশ দিয়েছেন পুরুলিয়াতে উকিলের সঙ্গে কথা বলে সন্ময়ের পরিবারের সঙ্গে থাকার জন্য। নেপাল মাহাতো সারাদিন কোর্টে ছিলেন। আগামীকালও কংগ্রেস কর্মীরা এবং নেতারা ওঁদের সঙ্গে থাকবেন। আমরাও সব সময় ওর পরিবারের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে আছি। দল তাঁর নেতার বিপদে থাকবে এটা কোন বলার ব্যাপার না। কিন্তু যে ভাবে অপপ্রচার চলছে তাই এই বিবৃতি দেওয়া হল। আমাদের লড়াই রাস্তায় চলছে, সন্ময়ের সঙ্গে যে অমানবিক ব্যবহার পুলিশ এবং দুষ্কৃতীরা করেছে সেই অভিযোগ খড়দহ থানা নেয় নি। এই অভিযোগ ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনেরেট এ ই-মেল করেছি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র প্রখ্যাত আইনজীবী এবং সি পি এম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্যকে অনুরোধ করবেন সন্ময়ের এই লড়াইয়ে সঙ্গে থাকার জন্য। দল সন্ময়ের এই লড়াইয়ে রাস্তায় এবং কোর্টে দৃঢ়ভাবে থাকবে।”

ইউটিউব, ফেসবুকের মতো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। বারবার তৃণমূলের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁকে সাইবার অপরাধে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে সোচ্চার বাম-কংগ্রেস৷ বিজেপিও তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে৷ শনিবার সকালে তাঁর পানিহাটির বাড়িতে যান বিজেপির জয়প্রকাশ মজুমদার ও অগ্নিমিত্রা পল।

রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি জয় প্রকাশ মজুমদার এদিন সন্ময়বাবুর গ্রেফতারি প্রসঙ্গে অভিযোগ করেন যে, “তৃণমূলের বক্তব্য অনুযায়ী এই রাজ্যে যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অঙ্গুলি হেলন ছাড়া কোন কাজ হয় না, সেখানে সন্ময় বাবুকে ও ওনার নির্দেশেই গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্ময়বাবু নিজের লেখনি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করছেন। গনতন্ত্রে সরকারের কাজের বিরুদ্ধে সমালোচনা হতেই পারে সন্ময়বাবু তার লেখা ও মুখের কথা দিয়ে সেটা করেছেন তিনি অন্তত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত বিধানসভা ভাঙচুর করেননি।”

পরে সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারিতে মমতার সরকারকে একহাত নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ”ইরাক, সিরিয়াতেও এমন হয় না। স্বৈরাচারী সরকার শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েছে। ভয়ঙ্কর পরিবেশ।” তিনি আরও বলেন,”সন্ময়বাবু অন্য দলের লোক। যদি আমাদের সাহায্য চান, আমরা রাজি। আইনি সহযোগিতাও করব।”

কেন্দ্রে কংগ্রেস-বিজেপি একে ওপরের প্রধান বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও রাজ্যের বিজেপি নেতারা যেভাবে তাঁ দের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাতে স্বাভাবিকভাবেই খুশি সন্ময়বাবুর পরিবার৷ সেকথা তাঁরা প্রকাশ্যে জানিয়েওছেন৷ রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বিজেপির এই ‘ভালমানুষি’তে সোমেন মিত্রদের সম্পর্কে ভুল বার্তা ছড়াতে পারে৷ সেটা বুঝেই এই প্রেস বিবৃতি দিয়েছে বিধানভবন৷ উল্লেখযোগ্য বিষয়, সন্ময়বাবু অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ট হিসেবেই দলে পরিচিত৷ অধীর চৌধুরী প্রদেশ সভাপতি থাকাকালীন তিনি কংগ্রেস বার্তার সহ সম্পাদক ছিলেন৷ কিন্তু সোমেন মিত্র প্রদেশ সভাপতি হতেই সোমেন ঘনিষ্টদের সঙ্গে বিরোধ বাধে সন্ময়বাবুর৷ তাঁকে কংগ্রেস বার্তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়৷ যদিও দলের অন্দরের এই কোন্দল আপাতত সরিয়ে রাখতে চাইছে বিধানভবন৷ সন্ময়বাবুর মুক্তিই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য৷ তাই ইস্যুতে লড়াইয়ে এতটুকু ফাঁক রাখতে চাইছে না তারা৷