সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘হ্যালো…তুমি শুনতে পাচ্ছো কি?” বেলা বোস যদি টেলিফোন প্রেমের আইকন হন। তাহলে তাঁর জনক অবশ্যই গ্রাহাম বেল এবং তাঁর ‘কথিত’ প্রেমিকা। কারণ তাঁরা সেই যে হ্যালো বলা চালু করেছিলেন। আজও ৯৯.৯৯ শতাংশ মানুষ ফোন ধরেই প্রথমে হ্যালো কথাটিই বলে থাকেন।

এখনও যে কোনও প্রেমিক ফোনের ওপারে থেকে যতবার হ্যালো বলেন, ততবার বেল ও মার্গারেটের প্রেম কাহিনী উচ্চারিত হয়। দিনে কোটি কোটি ফল কল হচ্ছে। আর প্রত্যেকবারই উচ্চারিত হচ্ছে গ্রাহাম বেলের সেই অজানা প্রেমিকার নাম উচ্চারিত হচ্ছে। প্রতিটি হ্যালোতে লুকিয়ে অজানা অচেনা প্রেমের সেই কাহিনী। গল্প কেমন? গল্প আপনার আমার মতোই। খুব সাধারণ। তবে টেলিফোনের আবিষ্কর্তা প্রথমবার ফোন তুলে কোনও কথা বলে থাকলে সেটার আর অসাধারণ থাকে না। আর সেটাই হয়ে গিয়েছে ইতিহাস।

গ্রাহাম বেল টেলিফোন আবিস্কারের পর তিনি প্রথম ফোন কলটি করেছিলেন তাঁর গার্লফ্রেন্ডকে। এবার এই প্রেমিকার নাম নাকি ছিল মার্গারেট হ্যালো। এবার বিজ্ঞানী তাঁর প্রেমিকার নাম ধরেই সম্বোধন করেছিলেন। বলেছিলেন ‘হ্যালো’। আর তালেগোলে সেটাই আজ সবার মুখে মুখে ফেরে। ফোন তুলেই ‘হ্যালো’………।

এবার একটি তথ্য এমনও বলছে যে, এটি একটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত কাহিনী। প্রথমত, আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল যাকে বিয়ে করেছিলেন তার নাম ম্যাবেল গার্ডিনার হুবার্ড। বিয়ের পর তার নাম হয় ম্যাবেল বেল। এছাড়াও এ পর্যন্ত কোনো সত্যিকারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বেলের তথাকথিত প্রেমিকা মার্গারেট হ্যালো সম্পর্কে। বিয়ের আগে অন্য কোনো নারীর সাথে বেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এমন কোনো দলিলও ইতিহাসের কোথাও পাওয়া যায় না।

তাহলে হ্যালো! আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল টেলিফোন আবিষ্কার করলেও ‘হ্যালো’ সম্ভাষণটি বলার প্রচলন তৈরি করেছিলেন বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কর্তা থমাস আলভা এডিসন। ১৮৭৭ সালের ১৮ জুলাই থমাস আলভা এডিসন ‘প্রিন্সিপাল অব রেকর্ডেড সাউন্ড’ আবিষ্কার করেন। সে সময়ে তার পরীক্ষানিরীক্ষার কাজে তিনি যে শব্দটি বারবার উচ্চস্বরে ব্যবহার করেছিলেন তা হলো ‘Halloo’। আর এই শব্দটিই তিনি প্রথম তার উদ্ভাবিত ‘পেপার সিলিন্ডার ফনোগ্রাফ’ যন্ত্রে রেকর্ড করেছিলেন। এই শব্দটি সেসময়ে ব্যবহৃত হতো মূলত কোনো ব্যক্তির মনোযোগ আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে। বলা হয়ে থাকে যে, শব্দটির বারংবার ব্যবহারের ফলে একসময় তা বিকৃত এবং পরিবর্তিত হয়ে ‘হ্যালো’ তে পরিণত হয়। অনেকে আবার বলে থাকেন শব্দটির মূল আবিষ্কারক ছিলেন এডিসন নিজেই। কিন্তু ১৮৭৭ সালের অনেক আগে থেকেই ‘হ্যালো’ শব্দটির প্রচলন ছিল। অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি অনুযায়ী, সর্বপ্রথম ‘হ্যালো’ শব্দটির ব্যবহার লিপিবদ্ধ হয় ১৮২৭ সালে যা এখন থেকে প্রায় ২০০ বছরের কিছুটা কম সময় আগেই। তবে এটা সঠিক যে থমাস আলভা এডিসনের সেই ‘হ্যালো’ শব্দটির রেকর্ড করার মাধ্যমেই সকল ক্ষেত্রে টেলিফোনে সম্ভাষণ স্বরূপ এটির প্রচলন শুরু হয়ে যায়।

তাহলে ফোন তুলে প্রথম কি বলেছিলেন গ্রাহাম বেল? তথ্য বলছে, তিনি তাঁর সহকারি থমাস ওয়াটসনকে বলেছিলেন।, ‘মিঃ ওয়াটসন, এদিকে আসুন। আপনাকে আমি দেখতে চাই।’

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও