প্যারিস: ক’দিন আগেও ভূতের কথা শুনলে পাত্তাই দিতেন না তাঁরা৷ বরং কেউ ভূতের ভয় পেয়েছে শুনলে তাঁকে ঘিরে ঠাট্টা-তামাশা করতেন এই দম্পতি৷ এখন সেই ভূতুড়ে কাণ্ড কারখানায় ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে ‘সাহসী’ যুগলের কাছে৷ ভূতের ভয়ে সূর্য ডুবলে স্বেচ্ছায় ‘ঘর-ছাড়া’ হয়ে রাতটুকু আশ্রয় নিচ্ছেন পরিজনদের বাড়িতে৷

স্বভাবতই, ভুক্তভোগীরা এখন তাঁদের নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করতে পিছপা হচ্ছেন না৷ আর ভূতের ভয়ে ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া শুকনো মুখে আতঙ্কিত দম্পতি স্টিফেন লি ও জেমস বলছেন, ‘‘নিজের চোখ-কানকে অস্বীকার করি কি করে বলুন! অভিজ্ঞতার চেয়ে বড় শিক্ষক তো আর কেই নেই৷’’

ভূত কি আদৌ রয়েছে? এবিষয়য়ে তর্ক বিতর্ক প্রশ্নাতীত৷ কেউ বিশ্বাস করেন আবার কেউ হেলায় উড়িয়ে দেন৷ তবে, মাঝেমধ্যে কিছু রোমহর্ষক ঘটনা ভূতুড়ে কাণ্ডে সিলমোহর দিয়ে থাকে৷ এমনই একটি রহস্যময় ঘটনা ঘটেছে ফ্রান্সে৷ জানা গিয়েছে, স্টিফেন লি, তাঁর স্ত্রী জেমস এবং তার দুই পোষ্য দীর্ঘ কয়েকবছর ধরেই একটি বাড়িতে রয়েছেন৷ বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়ির পরিবেশ কেমন রহস্যজনক থমথমে হয়ে উঠছে৷

আঁধার নামলেই বাড়ি জুড়ে ঘটছে গা শিউড়ে লোম খাঁড়া হয়ে যাওয়া একাধিক অবিশ্বাস্য কিছু ঘটনা৷ রাত হলেই কাদের যেন অদৃশ্য হাঁটাচলার টের পাওয়া যাচ্ছে দম্পতির হলঘরে! সন্দেহের নিরসনে হলঘরের এক কোণে সিসিটিভি ক্যামেরা বসান দম্পতি৷ তাতে যে ভয়াবহ দৃশ্য ফুটে উঠেছে, তাতেই রাত নামলে ‘ঘর-ছাড়া’ হতে বাধ্য হচ্ছেন দম্পতি৷

সামনেই ক্রিস্টমাস৷ বড়দিন এবং বর্ষবরণের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিজেদের বাড়ি সাজিয়ে তুলেছেন দম্পতি৷ হলঘরে টুনি বালবের লাইটের পাশাপাশি ক্রিস্টমাস ট্রি এনেছেন৷ সেই ক্রিস্টমাস-ট্রি কে ঘিরেি ঘটে চলেছে যতসব ভুতূড়ে কাণ্ড কারখানা৷ ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, রাতের বেলা স্বামী-স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর আচমকায় বদলে যাচ্ছে ক্রিস্টমাস ট্রিতে থাকা টুনি বালবের আলোর রঙ! এমনকি তাদের বাড়ির পোষ্যগুলিও বেডরুম ছেড়ে ভয়ার্ত চোখে বেরিয়ে আসছে ঘর থেকে৷ এক অজানা আতঙ্কে তারা হলঘরের এদিকে ওদিকে ছুটে বেড়াচ্ছে৷ কে যেন অদৃশ্যভাবে হেঁটে বেড়াচ্ছে৷ মাঝে মধ্যে আচমকায় এদিক ওদিক থেকে জিনিসপত্র সশব্দে পড়ে যাচ্ছে মাটিতে৷ কে যেন সে সব ছুঁড়ে ফেলছে৷

স্টিফেনের কথায়, ‘‘এমন বেশ কয়েকটি ভূতুড়ে কাণ্ড দেখার পর আর রাতে বাড়িতে থাকার ঝুঁকি নিচ্ছি না৷’’ বাড়িটিকে ‘হন্টেড’ হিসেবে মেনে নিয়েছেন তাঁরা৷ ভূতুড়ে কাণ্ডর বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়েই দম্পতি জানতে পেরেছেন, এই বাড়িটির জায়গায় আগে ছিল একটি হাসপাতাল৷ সেই হাসপাতালেই বহু রোগীর মৃত্যু হয়েছে৷ স্বভাবতই, বাড়িতে ভূতুড়ে কাণ্ডর পিছনে হাসপাতালের রোগী মৃত্যুর যোগসাজস উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা৷