সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: সুকুমার রায় লিখেছিলেন ‘অবাক জলপান’। বেন্টিঙ্ক ষ্ট্রীটের গেলে ‘অবাক জলপান’ গল্পের লাইন ‘অবাক চা পান’ হয়ে যেতে পারে।

একটা বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের পুরনো বাড়ি। ঠিক তার তলায় একটি ছোট্ট চায়ের দোকান। সেখানে এক বিশাল তামার পাত্র থেকে গলগল করে বেরোচ্ছে ধোঁয়া। তৈরি হচ্ছে এক বিশেষ ধরনের মিষ্টি চা, যা তৈরি দুধ দিয়ে কিন্তু খেলে গ্যারান্টি যে আপনার অম্বলের সমস্যা থাকলেও কিস্যু হবে না। দিব্যি সুস্থ থাকবেন।

৭৫ বছর ধরে পেট রোগা বাঙালিকে এমনই চা খাইয়ে অবাক করে দিয়েছে তামার পাত্রের চা। তাই ‘অবাক চা পান’ বলতে ক্ষতি কোথায় ? ঝোলে , ঝালে , অম্বলে বাঙালি। ব্রিটিশদের থেকে ধার করে চা খেতে শেখার পর থেকে সকালে, বিকালে, কাজের ফাঁকে একবার এক কাপ চা চক্রে যোগ না দিলে ঠিক জমে না। আবার ভেজাল খেয়ে খেয়ে বাঙালির এমনই অবস্থা যে, একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই গ্যাস, অম্বল, বুক জ্বালা।

তাই অনেকেই আজকাল দুধ চা থেকে সরে গিয়েছেন লিকার চায়ের দিকে। ওতে হয় না অম্বল, ভালো থাকে শরীর। এতেই স্বস্তি। কিন্তু ৭৫ বছরের বুড়ো দোকানের বুড়ো মালিকের দৈত্যাকার তামার পাত্রে হয়তো কোনও যাদু আছে। না হলে তিনি কিভাবে গ্যারান্টি দেন যে এই দুধ চা খেলে কোনও অম্বল বা চোঁয়া ঢেঁকুর এসব কিছুই হবে না। মহেন্দ্র সিংয়ের দাবি এমনটাই।

তিনি মনে করেন, তাঁর চা তৈরির পদ্ধতি এবং তামার পাত্রই এই ‘রহস্যের’ কারণ। কি সেই পদ্ধতি? দেখা গেল জল ফুটছে বিশাল তামার পাত্রে। তারপর কল দিয়ে নেমে আসছে সেই জল।

এই চা'য়ের এক চুমুকের ম্যাজিকে উধাও হয় 'ট্র্যাজিক' বাঙালির অম্বল

এই চা'য়ের এক চুমুকের ম্যাজিকে উধাও হয় 'ট্র্যাজিক' বাঙালির অম্বল

Kolkata24x7 यांनी वर पोस्ट केले मंगळवार, २५ जून, २०१९

অন্যদিকে দুধ ও লিকার পাতা একসঙ্গে মেশাচ্ছেন দোকানের মালিক। তারপর গরম জল দিয়ে পরিস্কার কাপড় থেকে যে নির্যাস বেড়িয়ে আসছে সেটাই অসলি চা। যা পান করলে গ্যাস অম্বলের সমস্যা দূরীকরণ হবে কি না জানা যায়নি তবে চা খাওয়ার পর অনেকেরই লম্বা লম্বা ঢেঁকুর ওঠে সেটা হবে না।

চায়ের দাম বেশি নয়। পাঁচ থেকে ২০ টাকা দিলেই মিলবে সুন্দর এই চা। জানা গেল, সারাদিনে অন্তত হাজার খানেকের বেশি মানুষ এই তামার পাত্রের স্পেস্যাল চা খেয়ে যান। হ্যাঁ। সংখ্যাটা হাজার খানেকের বেশিই। এমনই যে তার যাদু।