স্টাফ রিপোর্টার,কলকাতা : কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ও তার বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি বিজেপি সদর দফতরে গিয়ে পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু দু’সপ্তাহ না যেতেই দল ছাড়তে চান তাঁরা।

এরপরই সোমবার রাতে ওই দু’ জনকে নিয়ে দিল্লিতে বৈঠকে বসেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতায় ফিরে এসে শোভন চট্টোপাধ্যায় যা জানান, তাতে পরিস্কার, যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, বৈঠকে সেই সমস্যার সমাধান হয়নি।

দমদম বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায় জানান, যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তার সমাধান হয়ে গিয়েছে, এমনটা বলা মনে হয় সত্যের অপলাপ করা হবে।

যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল সেই সমস্যা নিয়ে মুকুলদা ডেকে ছিলেন, তার সঙ্গে কথা হয়েছে। দেখা যাক কি হয়? উনি দায়িত্ব নিয়েছেন। বিষয়টা নিয়ে পর্যালোচনা করবেন।

মুকুল রায় নিজেই জানিয়েছেন, সাড়ে তিন ঘন্টার বেশি সময় ধরে শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। দিনের শেষে মুকুলের দাবি, রাগ কমে গিয়েছে। শোভন-বৈশাখী বিজেপিতেই থাকছেন। মুকুল রায় পরিষ্কার জানিয়েছিলেন, সব বাজে কথা ছড়াচ্ছে। বৈশাখী-শোভন বিজেপিতে ছিল। আছে। আগামীদিনে কী হবে তা ভবিষ্যৎ বলবে।

মুকুলের কথা শুনে অনেকেই বলাবলি শুরু করেছেন। বিতর্কের যবনিকা পড়েনি। শোভন-বৈশাখীর যাবতীয় ক্ষোভের আগুনে জল ছিটিয়ে কিছুটা ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করেছেন মুকুল। কিন্তু, ছাই চাপা আগুন ধিকিধিকি জ্বলছে।

মুকুল রায়ের কথাবার্তায় এটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, শোভন-বৈশাখী বিজেপিতেই আছে। কিন্তু, ভবিষ্যতে কি হবে তা মুকুল রায়ও জানেন না। মুকুল বলেছেন, কৈলাস বিজয়বর্গীয় তাঁকে বলেছেন শোভন-বৈশাখীর সঙ্গে কথা বলতে। তিনি বলেছেন। আজকের কথা হয়েছে। পুরানো দিনের কথাও হয়েছে।

“শোভন-বৈশাখী বিজেপিতে ছিল। আছে। আগামীদিনে কী হবে সেটা ভবিষ্যৎ বলবে। এতো তাড়াতাড়ি বলার কারণ নেই।” – মুকুল এই কথা বললেও বিরোধ যে মেটেনি তা বিমানবন্দরে শোভনের কথাতেই পরিষ্কার।