সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : খাতায় কলমে পরিবেশবিদ হলেও ভুল হলে প্রতিবাদে নামেন সুভাষ দত্ত। এবার প্রতিবাদ নয়, পরিবেশবিদ জানালেন করোনার সাইড এফেক্ট।

আসলে সবাইকেই এখন বাড়িতেই থাকতে হচ্ছে। বাড়িতে বসে কাজ করতে হচ্ছে। বিশেষ নড়াচড়া হচ্ছে না। রোজকার জীবন অনেকটা বদলে গিয়েছে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবেই। সেটাই জানালেন পরিবেশবিদ। দীর্ঘ সময় লকডাউনের ফলে মানুষের সামাজিক ও শারীরিক কি সমস্যা হতে পারে পরে তা জানালেন তিনি। পরিবেশবিদ বলছেন, ‘করোনা দস্যুর ছোবল ছাড়াও আমরা এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সঙ্কটের সম্মুখীন হতে চলেছি। অসংখ্য মানুষের বিভিন্নভাবে রোগগ্রস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।’ সুভাষ দত্ত বলছেন,

১)সাধারণ অবস্থাতেই পরিবেশগত ও শারীরিক কারণে আমরা সঠিকভাবে নিশ্বাস নিতে পারি না, ফলে শরীর প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায় না। তার ওপর মাস্ক পড়ার ফলে স্বল্প অক্সিজেনের জোগানও কমে যাচ্ছে। চিন্তার তাই যথেষ্ট কারণ থাকছে যে নড়বড়ে শরীর ধপ করে বসে পড়বে না তো?

২) সবাই যদি ঘরে বসে থাকে তাহলে শরীরের বিষাক্ত জিনিস শরীরেই থেকে যায় – ঘাম হয়ে না বেরিয়ে তা বিপত্তি ডেকে আনবে। ৩)গন-পরিবহনে যারা যাতায়াত করেন দুলুনি বা ঝাকুনিতে তাদের পাচনযন্ত্র বাড়তি কাজ করে। ফলে হজমশক্তি হ্রাস পাবে।

৪)শতকরা আশি ভাগ মানুষেরই বাসস্থানের আয়তন পর্যাপ্ত নয়। এমতাবস্থায় স্বল্প-পরিসরে দিন-রাত একসঙ্গে থাকার কারণে গার্হস্থ্য কলহ বাড়বে। ভারতীয়রা যথেষ্ট সংবেদনশীল, তাই বিবাহ-বিচ্ছেদ না হলেও সুস্বাস্থ্যের সাথে বিচ্ছেদের সম্ভাবনা কিন্তু বাড়বেই। ৫) বিচ্ছিন্নতা মানুষকে আরও বিপন্ন করে তোলে। অসংখ্য মানুষ তাই মানসিক ভারসাম্য হারাতে পারে।

৬)যারা প্রাতঃভ্রমণ/সান্ধ্যভ্রমণ করেন তাদের শরীর ঠিক রাখাটাই এখন একটা চ্যালেঞ্জ। কারোরই বাড়িতে স্বাস্থ্যবান্ধব যন্ত্রপাতি (ট্রেড মিল, বি।সি।এম (Blood Circulating Machine), ওয়াকার ইত্যাদি) নেই; ফলে শরীরটাকে কেউই টিউন করতে পারবে না। রাজ্যপালের জন্যতো রাজভবনের বাগান রয়েছে, কিন্তু যারা বোটানিক্যাল গার্ডেন, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, রবীন্দ্র সরোবর ইত্যাদি জায়গায় ভ্রমণ করে থাকেন- তাদের কি হবে?

৭) যারা প্রায়শই নেশা করেন, যেমন- দেশী মদ বা চোলাই খায় তারা সেটা না পেয়ে বিপ্লবী হয়ে উঠতে পারেন। একটা আইনশৃঙ্খল জনিত প্রতিকূলতা ঘটতে পারে। দমদম জেলের কাণ্ড কিন্তু এমনি, এমনি হয়নি। এটা আশংকা থেকে বিপত্তির প্রকাশ মাত্র।

৮) অসংখ্য মানুষের বির্য্য যারা ধারন করে সমাজকে সেবা করেন তাদের কাছে পৌঁছানোর রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে কিন্তু অনেক নির্ভয়াকান্ড ঘটতে পারে।

৯) রাস্তায় বেরোলেই পুলিশ বাড়িতে ঢুকিয়ে দিচ্ছে, আমাদের জানা আছে যে KMDA এলাকায় শতকরা কুড়ি ভাগ মানুষ প্রক্ষালন ব্যবস্থার আওতার বাইরে। রাস্তার কল থেকেই কয়েক লক্ষ মানুষের জল তুলতে হয়। তারা কীভাবে তাদের চাহিদা মেটাবেন?

১০) প্রচুর প্রান্তিক মানুষ, যেমন- রিক্সাচালক, মুটেমজুর, হকারদের স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা রয়েছে। পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত ওইসব প্রান্তিক মানুষদের জন্য সত্যিই চিন্তিত।

তাঁর মতে, এর একটাই ভালো দিক। বায়ু ও শব্দ দূষণ কমে গিয়েছে।