শেখর দুবে, কলকাতা: ভূমিকম্প হয়, ব্রিজ ভাঙে, আগুন লাগে, তবুও মানুষ লড়াই করে বেঁচে থাকে, এটাই জীবন। এরকমই ছবি ধরা পড়ছে নিউটাউনের সাপুরজী মার্কেটে। এই মার্কেটে ১০-১২ বছরের পুরনো মুদিখানার বড় দোকান পরিতোষ মন্ডলের। ১০ লক্ষ টাকারও বেশি জিনিসপত্র রয়েছে দোকানে। তার পাশের দোকান অবধি পৌঁছেছিল আগুনের লেলিহান শিখা। তবে কোনক্রমে বেঁচে গিয়েছে পরিতোষের দোকান। রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন পরিতোষ ও দোকানের কর্মীরা। আর একটু হলেই তো শেষ হয়ে যাচ্ছিল তার সব। কিন্তু এই আতঙ্কেও খোলা রয়েছে তার দোকান। আশেপাশের সাধারণ মানুষ আসছেন কেনাকাটা করতে।

ভয় লাগছে না? এই প্রশ্নের উত্তরে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া পরিতোষের বক্তব্য, ভয় তো লাগছে দাদা। চোখের সামনে বন্ধুদের দোকান পুড়ে যেতে দেখলাম। নিজেরটা বেঁচে গেছে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। এখনও আতঙ্কে রয়েছি, তবে দোকানে লোকজন আসছে। অনেকেরই জরুরী জিনিস দরকার। তাই টুকটাক বিক্রি করতে হচ্ছে।

পরিতোষ মন্ডলের কথা মনে করিয়ে দেয় বিখ্যাত বলিউড সিনেমা “মেরা নাম জোকার”-এর। যেখানে জোকারের ভূমিকায় অভিনয় করা রাজ কাপুর অর্থাৎ রাজু চরিত্রটি সিনেমায় তার মায়ের মারা যাওয়ার ঠিক পরমুহূর্তে সার্কাস দেখাতে নেমেছিল। সিনেমায় জোকারের বেশেই আওড়েছিল বিখ্যাত ডায়লগ, “দ্য শো মাস্ট গো অন”। ধ্বংস হওয়াকে পিছনে ফেলে রেখে নতুন শুরুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার ঠিক এই ছবিই ধরা পড়ল সাপুরজী মার্কেটেও।

প্রসঙ্গত, ভোরবেলা লাগা আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে এই মার্কেটের প্রায় ৩০টি দোকান। সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠে কেনাবেচা শুরু করেছে বেঁচে যাওয়া দোকানগুলি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুসারে ভোর ৩ থেকে ৪ টের মধ্যে আগুন লাগে। এরপর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দমকল কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে জ্বলে গিয়েছে প্রায় ৩০ টি দোকান। দমকল কর্মী সহ আহত তিন। ইনসান মোল্লা নামের একজন ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়াতে প্রথমে তাকে কাছের নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে অ্যাপোলো নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।