স্টাফ রিপোর্টার, মহিষাদল: আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার জন্য সমস্যায় পড়েছে খেজুর রস সংগ্রহকারি শিউলিরা। তবে গত দুদিন ধরে জাঁকিয়ে শীত পড়ায় খুশি খেজুর রস সংগ্রহকারী শিউলিরা।এই শীতের সঙ্গে খেজুর রস ও গুড়ের বরাবরে একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। শীত পড়লেই খেজুর রস ও গুড়ের নানা সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয়। আর সেই খাবারের স্বাদ গ্রহণ করতে বছরভর ভোজন রসিক বাঙালি তাকিয়ে থাকে এই শীতের দিকেই।

প্রায় পঁচিশ দিন আগে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খেজুর রস সংগ্রহ করার জন্য তাবু খাটিয়েছে মহিষাদলের পূর্বশ্রীরামপুর, গড়কমলপুর, গোপালপুর, নাটশাল সহ বিভিন্ন প্রান্তের শিউলিরা। তবে শীত না পড়ায় সেই ভাবে রসের দেখা নেই। গত কয়েকদিন ধরে ধীরে ধীরে শীতের মাত্রা বাড়ায় খুশি শিউলিরা। এদিকে পর্যাপ্ত রসের অভাবে এখন বাজারে খেজুর গুড় কেজি প্রতি নব্বই টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এই ভাবে রস আরও বেশি পরিমান পাওয়া গেলে, আগামীদিনে দাম কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জেলার খেজুরি, ময়না, পটাশপুর এলাকা থেকে বহু শিউলিরা ঘাঁটি গেড়েছে মহিষাদলের বিভিন্ন এলাকায়। খেজুরি থেকে আগত শিউলি অমিত মিদ্যা জানান, ”কম দূরত্বের মধ্য বেশি পরিমান খেজুর গাছ পাওয়ার কারনে গত পাঁচ বছর ধরে মহিষাদলের পূর্ব শ্রীরামপুরে আমরা খেজুর রস সংগ্রহ করে আসছি।” তিনি আরও বলেন, তাঁর পূর্ব পুরুষরা এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। এগারো বছর বয়স থেকেই এই কাজ করে আসছেন তিনি।
অমিত মিদ্যা জানান, অন্যান্য জিনিসের দাম বাড়লেও খেজুর রস বা গুড়ের দাম সেইভাবে বাড়ছে না। তার উপর বর্তমান সময়ে আবহাওয়ার খামখেয়ালির কারনে সেভাবে রস পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, তাঁদের পূর্ব পুরুষরা অনেক দিন ধরেই এই ব্যবসা করে আসছে। তাই শত কষ্টের মধ্যেও এই কাজ এক প্রকার বাধ্য হয়েই করে যাচ্ছেন তাঁরা।