বর্ধমান: জেলা পরিষদের রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেলের অফিসে হানা দিয়ে এক ঠিকাকর্মীর টেবিলের ড্রয়ার থেকে হিসাব বহির্ভূত ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করলেন জেলা শাসক। ড্রয়ার থেকে জেলা পরিষদে নিয়োগের ১৫৮টি অ্যাডমিট কার্ডের কাউন্টার ফয়েলও উদ্ধার হয়েছে। টাকার বিষয়ে কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ওই ঠিকাকর্মী। হিসাব বহির্ভূত টাকা মেলায় ঠিকাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

টাকা ও অ্যাডমিট কার্ডের কাউন্টার ফয়েল পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। ধৃতের নাম তন্ময় রায় চৌধুরি। তিনি জেলা ট্রেনিং কো-অির্ডনেটর পদে কর্মরত। বীরভূমের শান্তিনিকেতনের সুরুলে তাঁর বাড়ি। বুধবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়।

ধৃতের হয়ে আইনজীবী সদন তা জামিন চেয়ে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, অভিযোগে কোথাও ঘুষ নেওয়ার কথা বলা হয়নি।তাঁর কাজে অসন্তুষ্ট হলে প্রশাসনের কর্তারা তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে পারেন। অ্যাডমিট কার্ডের যে ফয়েল উদ্ধার হয়েছে তার নিয়োগের পরীক্ষা অনেক আগেই হয়ে গিয়েছে। মিথ্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। সরকারি আইনজীবী অবশ্য জামিনের বিরোধিতা করেন। সওয়াল শুনে ধৃতকে সোমবার পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম সোমনাথ দাস।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ২টো নাগাদ জেলা শাসক বিজয় ভারতী জেলা পরিষদের রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেলের অফিস পরিদর্শনে যান। তাঁর সঙ্গে আর‌ও কয়েকজন আধিকারিক ছিলেন। জেলা শাসক অফিসের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। বিভাগের কাজকর্মের বিষয়ে দপ্তরের কর্মীদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেন। তন্ময়ের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর কাজকের্ম অসন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা শাসক। আচমকা তাঁর টেবিলের ড্রয়ার খুলে দেখেন তিনি। টাকা ও অ্যাডমিট কার্ডের ফয়েলের বিষয়ে কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা জেলা শাসককে দিতে পারেন নি তন্ময়। নিয়োগের পরীক্ষার ফল বের হওয়ার পরও কেন সে সংক্রান্ত ফাইল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়নি তারও কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেন নি তন্ময়। এরপরই তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ঘটনার বিষয়ে প্রোজেক্ট ডিরেক্টর মানস হালদার পুলিসে অভিযোগ দায়ের করেন। প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত কর্মীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ উঠছিল। তাঁর কাজকর্মে অসন্তুষ্ট জেলা প্রশাসনের কর্তারা।