দেবময় ঘোষ, কলকাতা: নন্দীগ্রামের জয়দেব মণ্ডল, সিঙ্গুরের লালমোহন হাজরা এবং ভাঙরের বিশ্বজিৎ বায়েন – এই তিন ফুল ব্যবসায়ী ২১ মে দিনটিকে সারা জীবন মনে রাখতে চান।

হাওড়ার মল্লিকঘাট ফুল বাজারের এই তিন মধ্যবয়সী ‘যুবক’ মনে করেন, সারা বিশ্ব এই দিনটি মনে রাখুক। বিশ্বের সব থেকে বড় গণতন্ত্রে দুনিয়ার সব থেকে বড় রাজনৈতিক দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দ্বিতীয়বার শপথ নেবেন – দিনটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি জরুরি। জয়দেব, লালমোহন, বিশ্বজিতের কথায়, নির্বাচনের এই সুবিশাল রায় মোদীজির পক্ষে গিয়েছে। এতো রেকর্ড। সারা দুনিয়ার জানা উচিত।

মল্লিকঘাটের এই তিন ফুল ব্যবসায়ী প্রধানমন্ত্রী মোদীর জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি ফুলের তোড়া তৈরি করে এনেছেন বৃহস্পতিবার। ভেবেছিলেন, রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষের হাতে ওই তোড়া তুলে দেবেন মোদীজিকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় কেউই রাজ্য দফতর ৬ নম্বর মুরলিধর সেন লেনে ছিলেন না। কিন্তু তাতেও জয়দেব-লালমোহন-বিশ্বজিতের উৎসাহে ভাটা পড়েনি।

জয়দেব মণ্ডল নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। জয়দেবের দাবি ২০০৫ সালে কলকাতার সত্য নারায়ণ পার্কের একটি প্রেক্ষাগৃহে বক্তব্য রাখতে আসেন অরুণ জেটলি। সেই অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিন ছিলেন। সদ্য দলে যোগ দিয়েছিলেন নন্দীগ্রামের সোনাচূড়ার এই বাসিন্দা। সেই শুরু, আর পর নন্দীগ্রামে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের আশ্রয়েই ছিলেন জয়দেব। ছিলেন জমি আন্দোলনের শুরু থেকেই।

লালমোহন হাজরার বাড়ি সিঙ্গুরের দিয়ারা এলাকায়। সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় তিনি ছিলেন টাটার কারখানার পক্ষে। চেয়েছিলেন সিঙ্গুর শিল্প আসুক। লালমোহনের মতে সিঙ্গুর বদলে গিয়েছে। বেচারাম মান্নার মতো তৃণমূল নেতাদের আর চাইছে না সিঙ্গুরবাসী। বরং সিঙ্গুরবাসী কর্মসংস্থান চায়। হুগলির নতুন সংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় সিঙ্গুরের জমিতে কারখানার কথা বলেছেন। তা মনে ধরেছে লালমোহনের। টাটার সিঙ্গুর নতুন কোনও প্রকল্প নিয়ে ফারুক চান তিনি। লালমোহনের কোথায়, সিঙ্গুরের জনতা জানে ওই জমিতে চাষ হইবে না। শিল্পই হবে। অতএব , ফারুক টাটা।

ভাঙরের বেওতা ১ নম্বর অঞ্চলের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বায়েন ভাঙ্গরের পাওয়ার গ্রিড জমি আন্দোলনে ছিলেন। কিন্তু চেয়েছিলেন দুর্বৃত্ত দূরীকরণ করুক প্রশাসন। তা হয়নি। বরং আরাবুল-কাইজারদের দাপাদাপি বেড়েছে। বিশ্বজিৎ বিশ্বাস করেন বিজেপি বাংলায় সুশাসন আনতে পারবে। গুন্ডারাজ বন্ধ হবে।

বিজেপি পরিচালিত, পশ্চিমবঙ্গ অসংগঠিত ট্রেড ইউনিয়ন সেলের সাধারণ সম্পাদক সৌমেন চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে লালমোহন, বিশ্বজিৎরা বিজেপিতে যোগ দিতে এসেছেন। তবে তাঁদের কথাতেও একটি ইঙ্গিত রয়েছে যা দিলীপ ঘোষরা আগামীদিনে চিন্তা করে দেখতে পারেন।

বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামে এবং গ্রামীণ রাজনীতির তিন সর্বাধিক চর্চিত জনপদ থেকে উঠে আসা জয়দেব-লালমোহন-বিশ্বজিৎ মনে করেন মানুষের ভরসা ধরে রাখার জন্য বেচারাম মান্না , আরাবুল, কাইজারদের মতো তৃণমূল নেতাদের বিজেপি যেন জায়গা না দেয়।